রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুনানি শুরু

নিউজ ডেস্ক:   আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডের দ্য হেগে এই শুনানি শুরু হয়। এটি চলবে তিন দিন। মিয়ানমারের পক্ষে এ শুনানিতে লড়ছেন অং সান সু চি।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ১৫ জন নির্দিষ্ট বিচারপতি রয়েছেন। তবে এই শুনানিতে ১৫ জনের সঙ্গে রয়েছেন আরও দুজন এডহক বিচারপতি। গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রফেসর ক্লাউস ক্রেস এডহক বিচারপতি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী শুনানির শুরুতেই তাদের দুইজন শপথ নেন। তিন দিনের শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত মাসে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন’র (ওআইসি) পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে গাম্বিয়া।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মতে, গাম্বিয়া মঙ্গলবার প্রথম দফার মৌখিক পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে। অন্যদিকে বুধবার মিয়ানমার প্রথম দফার মৌখিক পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে।

এরপর গাম্বিয়া ও মিয়ানমার উভয়ে দ্বিতীয় দফার মৌখিক পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে যথাক্রমে বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকালে।

এদিকে পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলও তথ্য উপাত্ত নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত থাকছে। প্রতিনিধিদলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও রয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলে একসময়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন সু চির সু চি। তিনি মানবিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের আইকনে পরিণত হয়েছিলেন। জিতেছিলেন শান্তিতে নোবেল। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা অস্বীকার এবং অভিযুক্তদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এখন নিন্দা ও সমালোচনার সম্মুখীন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর এই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে উল্লেখ করে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো একে গণহত্যা বলে বর্ণনা করে।