আপন ভুবনে কবি গাউসুর রহমান

নিউজ ডেস্ক:   অধ্যাপক গাউসুর রহমান। জন্ম ৮ই অক্টোবর ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা জেলার সদর থানায়। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান যিনি সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা আলহাজ্ব হুসনে আরা বেগম।

১৯৮০ সালে বিজ্ঞান বিষয়ে স্টার মার্ক পেয়ে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রথমে তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে চলে আসেন এবং প্রাক নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৮৫ সালে তৎকালিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) পরীক্ষায় ২য় শ্রেণীতে ১ম হন। উল্লেখ্য সে বছর কেউ ফার্স্ট ক্লাস পায়নি। ১৯৮৬ সালে কৃতিত্বের সাথে ২য় শ্রেণীতে ১ম হয়ে মাস্টার্স শেষ করেন। প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস কৃতিত্বের সাথে শেষ করেন।তিনি ময়মনসিংহ ’ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেন।

তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক মুক্তকন্ঠ, দৈনিক জনতা, দৈনিক দেশ, দৈনিক নয়া দিগন্ত, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, সাপ্তাহিক রোববার সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় কলাম, ফিচার লিখে আসছেন। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দেশ আমার ম্যাগাজিন এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া দৈনিক জনতার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে যখন দৈনিক আজকের বাংলাদেশ প্রকাশিত হয় তখন তিনি সম্মান শ্রেণির ছাত্র, সেই সময়ই তিনি দৈনিক আজকের বাংলাদেশ পত্রিকার সহকারি সম্পাদক ছিলেন।

তিনি ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ময়মনসিংহ সমাচার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ছিলেন। তিনি দৈনিক আজকের খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্ঠা সম্পাদক ছিলেন। তিনি নেত্রকোণা জেলার প্রথম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক নেত্র এর প্রতিষ্ঠাতা বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ”ময়মনসিংহ টাইমস” এর সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৮৫ টি। এর মধ্যে কবিতা, গবেষণা-প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাস রয়েছে। স্বীকৃত জার্নালে তার ৩৮টি গবেষণা- প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর দীর্ঘ ভূমিকা সম্বলিত সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পর্যায়ের সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি তুখোড় বিতার্কিক ছিলেন। তিনি আনন্দ মোহন কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির দলনেতা ছিলেন ও বেশ কয়েকবার জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগীতায় দলনেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। তিনি বিভিন্ন সময় টেলিভিশনে সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আমন্ত্রিত কবি হিসেবে স্বরোচিত কবিতা পাঠ করেছেন।

উল্লেখ্য, ত্রিশালে যখন জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উৎসব শুরু হয়, তখন তিনি বেশ কয়েকবার মূল প্রবন্ধ পাঠ করেছেন এবং আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর লেখা গবেষণা মূলক গ্রন্থ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আসাম গণ বিশ্ববিদ্যালয়েও রেফারেন্স বই হিসেবে পড়ানো হয়।

কবি গাউসুর রহমান ১৯৮২ সালে গফরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে ছয়টি প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পাঁচটিতে ১ম হয়ে চ্যাম্পিয়ন হন । উক্ত প্রতিযোগিতায় ১টিতে ১ম ও ৩টিতে ২য় হয়ে রানার্সআপ হন মনিরুল সালেহিন, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব। সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী।