মার্কিন নৌ-ঘাঁটিতে হামলাকারী সৌদি সেনা কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পেন্সাকোলা নৌ-ঘাঁটিতে হামলাকারী সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর একজন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পার। এটি সন্ত্রাসী হামলা কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার ওই সৌদি সেনা কর্মকর্তার হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত ও ৮ জন আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন হামলাকারীও।

মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, হামলাকারীর নাম মোহাম্মদ সায়িদ আলশামরানি। তিন বছর মেয়াদী বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন তিনি।

এদিকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘নৌ-ঘাঁটিতে হামলার পরই সৌদি বাদশাহ সালমান আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বন্দুকধারীকে বর্বর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কী কারণে হামলাকারী এ বর্বরতা চালিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষেই সব পরিষ্কার হবে।’

এদিকে ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাদশাহ সালমান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই জঘন্য অপরাধের অপরাধী সৌদি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, যারা আমেরিকান জনগণকে বন্ধু এবং মিত্র হিসেবে গণ্য করে।’

হামলার দিন শুক্রবার অন্যান্য দিনের মতোই সকালে দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু হয় ফ্লোরিডার পেন্সাকোলা নৌ-ঘাঁটিতে। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ করেই ঘাঁটির প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত একটি শ্রেণিকক্ষে শুরু হয় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া।

ঘটনার পরপরই নৌ-সেনারা হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পুলিশের বিশেষ বাহিনী। যৌথ অভিযানে নিহত হন হামলাকারী।

নৌঘাঁটির ক্যাপ্টেন টিমোথি কিনসেলা বলেন, ‘একটি ফোন কলে জানতে পারি, আমাদের একটি ভবনে কেউ গুলি চালাচ্ছে। এরপরই ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোর পাশাপাশি, আমাদের সেনারা হামলাকারীকে প্রতিহত করে।’