মেট্রোরেলের আওতায় আসছে নারায়ণগঞ্জ

নিউজ ডেস্ক:  রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো গতিশীল করতে মেট্রোরেলের দুটি লাইনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের এমআরটি লাইন-২ ও ৪ এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ স্থাপন করা হবে। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি ও বিস্তৃত পরিবহন পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আবেদনের পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।

সূত্র জানায়,  ডিটিসিএ কর্তৃক সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর জন্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) ২০১৬-২০৩৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নগর ডিটিসিএর আওতাভুক্ত। আরএসটিপিতে পাঁচটি এমআরটি লাইন ও ২১টি মাল্টিমডেল টার্মিনাল হাব নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে এমআরটি লাইন-২ চট্টগ্রাম রোডে শেষ হবে এবং এমআরটি লাইন ৪ বিদ্যমান রেললাইন নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ নগরীতে একটি মাল্টিমডেল টার্মিনাল হাব নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। লাইন দুটি আরএসটিপিতে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে প্রস্তাবিত মাল্টিমডেল টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করে ঢাকা মহানগরীর সঙ্গে সমন্বিত একটি
পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ করা যেতে পারে। ফলে নারায়ণগঞ্জ আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

মেয়র আইভীর আবেদনের বিষয়ে গত ২৪ নভেম্বর ডিটিসিএর বোর্ড সভায় আলোচনা হয়। পরে এমআরটি লাইন দুটি নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করে সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামোর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে মেয়র আইভী সাংবাদিকদের বলেন, সভায় এ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা কাজটিকে স্বাগত জানাচ্ছি। যাতে অতি দ্রুত এটি বাস্তবায়ন হয়।

জানা গেছে, বর্তমানে এমআরটি লাইন-২ এর রুট হচ্ছে- গাবতলী-বছিলা-মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড-সাত মসজিদ রোড-জিগাতলা-ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড়-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউ মার্কেট-নীলক্ষেত-আজিমপুর-পলাশী-শহীদ মিনার-ঢাকা মেডিকেল কলেজ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-গোলাপ শাহ মাজার-বঙ্গভবনের উত্তর পাশের সড়ক মতিঝিল-আরামবাগ-কমলাপুর পর্যন্ত। কিন্তু সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় এটি মুগদা-মাণ্ডা-ডেমরা-চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরামর্শ দেয়া হয়। আরএসটিপি হালনাগাদ করার সময় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে আরএসটিপি-২০১৫ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-৪ এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে ট্র্যাকের নিচ বা পাশ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল বা উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।