পেঁয়াজ, দ্রব্যমূল্য ও বাজার অর্থনীতি

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম:   দেশ এখন একটি ‘যন্ত্রণার রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে। নিত্যদিনের জীবনযন্ত্রণায় জনগণ কাতর ও বিপর্যস্ত। জনগণ আজ কাহিল ও অবসন্ন। একের পর এক নানা যন্ত্রণাময় ঘটনা নিয়ে তোলপাড় উঠছে। এসব ‘কা–কারখানা’ দেশবাসীকে হতচকিত করে চলেছে। একটি তোলপাড় শেষ না হতেই শুরু হয়ে যাচ্ছে অন্য আরেকটি তোলপাড়ের নতুন পর্ব।

মাসতিনেক ধরে চলছে ‘পেঁয়াজকা-’ নিয়ে ‘মহাতোলপাড়’। গত ১-২ মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম লাফ দিতে দিতে এখন হিমালয়ের শৃঙ্গের সমান উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। অথচ এ নিয়ে সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যথার লক্ষণ নেই। সরকার পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং এ বিষয়ে মন্ত্রীরা বলেছেন, দেশ এখন ‘পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির’ যে পথ অনুসরণ করছে সেখানে ‘বাজারের’ ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। তার প্রয়োজনও নাকি নেই। কারণ বাজারের শক্তিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে। কিন্তু মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও সেই ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ’ ঘটেনি।

পেঁয়াজের দাম যখন কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছিল তখন একজন মন্ত্রী দায়িত্বহীনভাবে জনগণকে আশ্বস্ত(!) করে ‘এলান’ জারি করেছিলেন যে, ‘পেঁয়াজের বাজার এখন পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।’ মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর (তার ফলাফল হিসেবেই কিনা জানি না!) পেঁয়াজের দাম আরও ১০০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকার কাছাকাছিতে উপনীত হয়েছিল। কোনো কিছুতেই কিছু না হওয়ায় জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে সরকার জানিয়েছিল, সহসাই কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ‘সহসা’ পার হতে আরও ৩-৪ সপ্তাহ লেগেছিল। অবশেষে ঘোষণা এসেছিল যে, পাকিস্তানি পেঁয়াজ বহনকারী বিমান ঢাকায় অবতরণ করেছে।

সরকার পেঁয়াজের মূল্য সংকট দূর করতে না পারলেও সে বিষয়ে ‘রসিকতা করতে’ ও ‘জ্ঞান দিতে’ কার্পণ্য করেনি। বলা হলো, ‘মানুষ চড়তে পারে না, আমি প্লেনে পেঁয়াজ নিয়ে এসেছি।’ বলা হলো, জনগণ ৮০০ টাকা কেজিতে মাংস কিনে খেতে পারলে ২০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনতে পারবে না কেন? বলা হলো, পেঁয়াজ ছাড়াও তো রান্না করা যায়। জানানো হলো, প্রধানমন্ত্রীর রান্নাঘর এখন পেঁয়াজমুক্ত। এ খবরে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানালেন, তিনি পেঁয়াজ ছাড়াই ১২ রকম তরকারি রান্না করতে পারেন। মন্ত্রী জনগণকে পরামর্শ দিয়ে বললেন, পেঁয়াজের দাম যতদিন ‘নাগালের বাইরে’ আছে ততদিন ‘পেঁয়াজ ছাড়াই’ চলুন না! এই পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, পেঁয়াজের দাম বাড়লে ‘পেঁয়াজ ছাড়া’ চলাই যদি মন্ত্রীর প্রেসক্রিপশন হয়, তা হলে জামাকাপড়ের দাম বাড়লে তিনি জনগণকে কি একইভাবে ‘জামাকাপড় ছাড়া’ চলার পরামর্শ দেবেন?

শুধু পেঁয়াজ নয়, জনগণের নিতব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম অযৌক্তিকভাবে আকাশচুম্বী হওয়ার ঘটনা এ দেশে এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ‘পেঁয়াজকা-’ চলতে চলতেই, শুধু গুজবের ওপর ভিত্তি করে, সারাদেশে লবণের দাম ১০০ টাকায় উঠে গিয়েছিল এবং ২-৩ দিন বাজার থেকে তা প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনে চালের দাম হঠাৎ করে কেজিপ্রতি ৬-৭ টাকা বেড়ে গেছে। আটা, ময়দা, সুজি, রসুন ইত্যাদির দামও একই সঙ্গে বেড়ে গেছে। খাদ্যসামগ্রীসহ জনগণের নিত্যব্যবহার্য পণ্যসামগ্রীর মধ্যে কোনটার দাম যে কখন কতটা বাড়বে তা কেউ বলতে পারছে না। এদিকে কৃষিপণ্যের বাজারে কৃষককে পানির দামে তার ফসল বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। সব ‘বাজারই’ এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মুনাফালোভী লুটেরা সিন্ডিকেট দ্বারা। ‘জনগণের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে লুটপাটের লালসায় চালিত একটি ক্ষুদ্র ‘লুটেরা সিন্ডিকেটের’ নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে তা এখন পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শুধু পেঁয়াজের ক্ষেত্রেই নয়, সাধারণভাবে দ্রব্যমূল্যের সার্বিক ক্ষেত্রে জনগণকে পিষ্ট হতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নানা ক্ষেত্রে একের পর এক ভয়ঙ্কর সব কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে চলেছে। সম্প্রতি ‘বালিশকা-’, ‘পর্দাকা-’, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের ‘চাঁদাবাজিকা-’, ‘বোরো ধানকা-’ ইত্যাদি একটির পর একটি ঘটনা জনগণকে স্তম্ভিত ও দিশেহারা করেছে। অনেকে বলছেন, একটা ‘কা-’ শেষ না হতেই আরেকটা নতুন ‘কা-’ সামনে এনে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই সরকার নিজেই এভাবে ‘কা-ের পর কা-কে’ সামনে আনছে। কিন্তু একটির পর একটি ‘কা-’ সামনে আসছে আসলে এ কারণে যে, বর্তমানে যে অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুসরণ করে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, সেই ‘ব্যবস্থার’ অন্তর্নিহিত রুগ্নতাই অবধারিতভাবে এসবের জন্ম দিচ্ছে। রোগের আসল উৎস হলো প্রচলিত ‘ব্যবস্থা’ এবং তারই উপসর্গ হলো একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকা এসব ‘কা-’।

চাল-ডাল-আটা-তেল-চিনি-পেঁয়াজ-মরিচ-মাছ-মাংস-তেল-সাবান ইত্যাদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য প্রতিটি জিনিসের দামই ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বাড়িভাড়া, যাতায়াত খরচ, শিক্ষা-চিকিৎসা-ওষুধপত্রের দাম, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির রেইট। অথচ দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আয়-উপার্জন সেই তুলনায় বাড়ছে না। ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা তথা তাদের ‘প্রকৃত আয়’ ক্রমাগতভাবে কমছে। শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুরসহ স্বল্প আয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্ত জনগণের জীবন সংকট এ কারণে অসহনীয়ভাবে বেড়ে চলেছে।

সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ‘উন্নয়নের’ স্বার্থে দেশের ১ শতাংশ ‘ভাগ্যবান’ মানুষকে আইনি-বেআইনি সব রকম উপায়ে ফুলেফেঁপে উঠতে সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের হাতে সম্পদের পাহাড় কেন্দ্রীভূত হতে দিলে, সেই সম্পদ ‘চুইয়ে পড়ে’ এক সময় বঞ্চিত ৯৯ শতাংশের হাতে এসে পৌঁছাবে। তাই দেশের ‘উন্নয়নের’ স্বার্থে ৯৯ শতাংশ মানুষকে এসব দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে। এটি নাকি হলো ‘উন্নয়নের প্রসববেদনা’। কিন্তু যে বিপুল অর্থ-সম্পদ ১ শতাংশ লুটেরাদের কুক্ষিগত করতে দেওয়া হচ্ছে তার সিংহভাগ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে নিয়োজিত হওয়ার বদলে তা বাস্তবে কানাডা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে কিংবা তার বিপুল অংশ ভোগবিলাসে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে তা ‘চুইয়ে পড়ে’ ৯৯ শতাংশ বঞ্চিত মানুষের কাছে আসছে নাÑ কখনই আসবেও না। তাই ‘উন্নয়নের’ এই হিসাব হয়ে থাকছে একটি প্রতারণাপূর্ণ শুভঙ্করের ফাঁকি।

এই ফাঁকিবাজি ও প্রতারণা সম্পর্কে সরকারের কোনো কথা নেই। তা থাকবেই বা কেন? কারণ এই সরকার হলো ‘বিনা ভোটের’ নৈশকালীন অভিযানে ‘নির্বাচিত’(!) সরকার এবং এ সরকার হলো সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি ও এ দেশের ১ শতাংশ লুটেরা ধনীকের স্বার্থরক্ষাকারী সরকার। এ অবস্থায় দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষকে চিরদিন দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ায় পায়ের তলায় পিষ্ট হতে হচ্ছে। প্রশ্ন হলো-এ দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের পথ তবে কী?

অনেকের ধারণা, দেশের কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা শুধু সমালোচনা করতে জানে। কোনো সমস্যার সমাধান-সূত্র তাদের কাছে নেই। এ ধারণা সঠিক নয়। যেমন ধরা যাক, এবারের ‘পেঁয়াজকা-ের’ কথা। কিংবা গত বোরো মৌসুমে কৃষককে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে যে তার ‘রক্তে বোনা ধান’ বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিলÑ তার কথা। কোন কোন বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে পেঁয়াজ, ধান ইত্যাদি কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে ‘উৎপাদক’ ও ‘ভোক্তা’ উভয়ের বঞ্চনা নিরসন করা যায় তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা উপস্থিত করেছে। এসব বাস্তব সমাধান-সূত্র তুলে ধরে তারা এ সত্যটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, জনজীবনের এসব যন্ত্রণা কোনোক্রমেই ‘উন্নয়নের অবধারিত প্রসববেদনা’ এবং সে কারণে বিধিলিপি বলে মেনে নেওয়ার বিষয় নয়। জনগণের ওপর এ ধরনের অমানবিক ও নির্মম ‘প্রসববেদনা’ চাপিয়ে দেওয়া ব্যতিরেকেই আরও দ্রুত ও আরও গভীরতাসম্পন্ন ‘প্রকৃত উন্নয়ন’ অর্জন করা সম্ভব। সেই রূপকল্প ও পথনির্দেশ তারা হাজির করেছে।

এবারের সংকট ও গণদুর্ভোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা দেখিয়েছে, শুধু ‘পেঁয়াজকা-ে’ জনগণের পকেট কেটে কমপক্ষে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লুট করে নেওয়া এই টাকা দিয়ে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে অস্থায়ী ‘ফসল-সংরক্ষণাগার’ নির্মাণ করা যেত। জাতীয় বাজেটের মাত্র একশ ভাগের এক ভাগ অর্থ ব্যয় করলেও সে কাজটি করা যেত। ইউনিয়নে-ইউনিয়নে সরকারের উদ্যোগে ফসল ক্রয়কেন্দ্র ও ‘অস্থায়ী ফসল-সংরক্ষণাগার’ থাকলে কৃষিপণ্যের ‘উৎপাদক’ ও ‘ভোক্তা’-এই দুই পক্ষের কোনো পক্ষকেই ‘লুটেরা বাজার সিন্ডিকেটের’ লালসার অসহায় শিকার হয়ে এভাবে নিঃস্ব ও ধ্বংস হতে হতো না। ধান, পেঁয়াজ ইত্যাদি ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ‘উৎপাদকরা’ তা পানির দামে ‘সিন্ডিকেটের’ কাছে বিক্রি করে দেওয়ার বদলে ন্যায্যমূল্যে সরকারের কাছে তা বিক্রি করতে অথবা নিজেদের সমবায় প্রতিষ্ঠা করে তার পক্ষ থেকে তাদের ফসল সুবিধাজনক সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারত। গ্রামে গ্রামে কৃষকদের ‘উৎপাদক সমবায়’ প্রতিষ্ঠা করে এবং তার সমান্তরালে সর্বত্র ‘ভোক্তা সমবায়’ প্রতিষ্ঠা করে, এই দুই সমবায়ের মধ্যে সরাসরি কেনাবেচার ব্যবস্থা করলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকেও রেহাই পাওয়া যেত।

‘দ্রব্যমূল্য’ এমন একটি বিষয় যা কোনো বিবেচনাতেই ‘লুটেরা সিন্ডিকেটের’ লালসা ও মুনাফা-খেলার কাছে জিম্মি হতে দেওয়া যেতে পারে না। এ কারণে তাই বাজার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে করে কোনো অশুভ ও জনস্বার্থবিরোধী শক্তি দ্রব্যমূল্য নিয়ে ‘খেলা করতে’ না পারে। দ্রব্যমূল্যের কশাঘাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ আজ বিশেষভাবে জরুরি।

১. বাজারের ওপর মুনাফা শিকারি লুটেরাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা। পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির দর্শন ও ‘মার্কেট ফান্ডামেন্টালিজম’ নীতি থেকে বের হয়ে আসা। ২. পাইকারি ও খুচরা বাজারে রাষ্ট্রের প্রভাব-সক্ষমতা সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে বাজারে ক্রেতা এবং বিক্রেতা হিসেবে সরকারের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা। ৩. পৃথক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে গ্রাম-শহরসহ সারাদেশে সাশ্রয়ী, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’ চালু করা। ৪. নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বিশেষত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা। এজন্য ছবিসহ রেশন কার্ড করা। এসব দরিদ্র মানুষকে রেশনে কন্ট্রোল দামে চাল, গম, তেল, ডাল, চিনি এবং প্রয়োজনমতো অন্যান্য অত্যাবশ্যক পণ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রদান করা। ৫. টিসিবির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অত্যাবশ্যক পণ্যসামগ্রীর আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত ও সচল রাখা।

৬. রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করা এবং ‘ভোক্তা সমবায় সমিতি’ সংগঠিত করে দেশব্যাপী বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ৭. বিএডিসির কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে সারাদেশে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে এবং সময়মতো খোদ কৃষকের কাছে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করা। ৮. একদিকে উৎপাদক-কৃষক ও অন্যদিকে ভোক্তা-সাধারণকে মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো, ‘ভোক্তা সমবায়’ এবং কৃষকদের ‘উৎপাদন সমবায়ের’ মধ্যে সরাসরি সংযোগ ও লেনদেনের ব্যবস্থা করা। ৯. সরকারের উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ফসল ক্রয়কেন্দ্র’ চালু করা এবং ‘অস্থায়ী ফসল সংরক্ষণাগার’ নির্মাণ করা। ১০. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পর্যাপ্ত সাইলো, গোডাউন ইত্যাদি নির্মাণ করে খাদ্যদ্রব্যসহ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাফার স্টক গড়ে তোলা। ১১. পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন সাধন, হাটবাজারে ইজারাদারি ব্যবস্থা ও তোলা আদায়ের অত্যাচার বন্ধ করা। ১২. আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওপেন মার্কেট সেইল, মার্কেটিং অপারেশন, টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) প্রভৃতি কর্মসূচিসহ দ্রুত ঝটিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সব সময় প্রস্তুতি রাখা। ১৩. সব ধরনের বিলাসদ্রব্য আমদানি আপাতত নিষিদ্ধ করা। ১৪. ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হলে যেমন দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতিজনিত বর্তমান সংকট বহুলাংশে লাঘব করা যাবে, ঠিক তেমনি তা ভবিষ্যতে দেশকে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার দাপট থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি