এলাচের কেজিতে বাড়লো ৬০০ টাকা

নিউজ ডেস্ক:  হঠাৎ উত্তাপ ছড়াচ্ছে মসলা জাতীয় পণ্য এলাচ। পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও খুচরা বাজারে হঠাৎ এই পণ্যটির দাম কেজিতে প্রায় ৬০০ টাকা বেড়েছে। তবে, পাইকারি বাজারে এলাচের কেজিতে মূল্য বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচের মূল্য ছিল ২৪০০ টাকা। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এলাচের মূল্য এমনিতেই চড়া থাকে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, এ সময়ে বিয়ে, মেজবান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের খাবারের অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশেও দাম বেড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এলাচের সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতেও এলাচের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের দেশে পাইকারি বাজারে এলাচের মূল্য কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।’

এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ নভেম্বর প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ২৪০০ টাকায়। আর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩০০০ টাকায়।

টিসিবির তথ্য বলছে, দুই দিনের ব্যবধানে এই পণ্যটির মূল্য বেড়েছে ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর গত বছরের ২৯ নভেম্বর প্রতি কেজি এলাচের মূল্য ছিল ১৫৫০ থেকে ২০০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই পণ্যটির মূল্য বেড়েছে ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, মিষ্টি বা ঝাল সব রকম খাবার তৈরিতে এই পণ্যটির ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থকে।

জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘এলাচের মূল্য এভাবে যারা বাড়িয়েছেন, তারা মূলত অতি মুনাফালোভী।’ তার মতে, ‘বাজারে কোনও প্রতিযোগিতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা যে যার মতো যেকোনও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ভোক্তাদের সমস্যা হলেও তারা (ব্যবসায়ীরা) ঠিকই পার পেয়ে যাচ্ছেন।’

বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যানুযায়ী, বছরে দেশে ৩ হাজার টন এলাচের চাহিদা রয়েছে। তবে, মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেকই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদ ঘিরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে এলাচ আমদানি হয়েছে ৬৮৭৮ টন। যার কেজিপ্রতি মূল্য পড়েছে ৫৭৮ টাকা।