তৃণমূলের পছন্দের শীর্ষে সিলেটের নাসির

সিলেট প্রতিনিধি :: আসন্ন ৫ই ডিসেম্বরের সিলেট জেলা আওয়ামিলীগের সম্মেলনে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক পদে পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছেন একসময়ের জাদরেল ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন খান। সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক জীবনে চরম চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসা নাসির
পিতা আলাউদ্দিন খানের মুজিব প্রেমের আসক্তি দেখেই মূলত ছাত্রলীগের রাজনীতির প্রতি ধাবিত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলাউদ্দিন খান ছিলেন প্রখ্যাত শালিসি ব্যক্তিত্ব। সেই কঠিন সময়ে আলাপে আলোচনায় পিতার মুজিব বন্দনা দেখেই মূলত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তারুণ্যের প্রথম প্রহরেই অংশগ্রহণ করেন নাসির। চাচা শাহাদাত হোসেন খান ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য। আর তাদের দেখেই পারিবারিক আবহেই নাসির হয়ে উঠেন রাজনীতি সচেতন।

সহপাঠীরা যখন আড্ডা, পিকনিক আর বোম্বে হিরো অনিল কাপুর, শ্রীদেবীতে মত্ত তখন নাসির উদ্দিন খান লাল সিডিআই হোন্ডা নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মী সংগ্রহ আর সভা-সমাবেশ নিয়ে ব্যস্ত। সামরিক জান্তার ভয়ে সহযোদ্ধারা যখন প্রেস রিলিজে দস্তখত করে ছাত্রলীগ ছাড়ছেন ঠিক সেই সময়ে শিক্ষা, শান্তি, আর প্রগতির পতাকাকে উড্ডীন করতে নাসির উদ্দিন খান দায়িত্ব নেন তৎকালীন শহর ছাত্রলীগ আর আজকের মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়কের। জেল, জুলুম, আর হুলিয়া উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া নাসির যোগ্যতা বলেই জায়গা করে নেন পরবর্তী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে। একদিকে প্রশাসন আর অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের উৎপীড়নে তার শিক্ষা জীবনে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও আদর্শচ্যুতি ঘটাতে পারেনি। আর তাই হয়তো ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় মুগ্ধ হয়েই তৎকালীন স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃত্ব তাকেই বেছে নিয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রূপে।

আর আস্থার প্রত্যাশিত জবাবও দিয়েছিলেন নাসির। সহযোদ্ধা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে সাথে নিয়ে সিলেটের উপজেলা, ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ড লেভেলে সুসংগঠিত করেছিলেন পিতা মুজিবের নিজ হাতে গড়া সংগঠনকে। তারই ফলস্বরূপ ছাত্রলীগের রাজনীতির ইতি ঘোষণার পরপরই জায়গা করে নেন জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক পদে। সুদর্শন চেহারা আর প্রখর মেধাশক্তি, দাম্ভিক গোফ আর মোটা চশমাপরা সেই সময়ের তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন খান ১/১১ এর কঠিন সময়ে মাসের পর মাস কারাগারের অন্ধকার সেলে নিষ্ঠুর নির্যাতনের রাজসাক্ষী হয়েও জনককন্যার প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। পরিবার, পরিজন, স্ত্রী, সন্তানের মোহ ত্যাগ করে পিতা মুজিবের প্রদর্শিত পথে অনিশ্চিত কারাজীবন কিংবা ফাঁসির দণ্ডরে ভয় তাকে লক্ষচ্যুত করেনি বলেই জনককন্যা ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া পরবর্তী জেলা সম্মেলনে তাকে দায়িত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের।

যেকোনো দায়িত্বই দায়িত্ববানদের মতোই সম্পাদন করেন বলেই নিকট অতীতে অনুষ্ঠিত সিলেটের বহুল আলোচিত চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েই চমকে দেন নাসির উদ্দিন খান। প্রশাসন কিংবা সরকারি কোনো সংস্থার হস্তক্ষেপ ছাড়া যেখানে চেম্বার নির্বাচনের কথা ভাবাই যায়না, সেখানে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর কারিশমাটিক মুন্সিয়ানা দেখিয়ে কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেয়ায় নাসির উদ্দিন খানকে ঘিরে প্রত্যাশার মাত্রাটা এখন উর্ধ্বমুখী।

সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে উৎসব আমেজের যে ঢেউ লেগেছে সিলেট আওয়ামী লীগে, তারই ছোঁয়া লেগেছে সিলেটের আন্দোলন, সংগ্রামে আর ব্যালটের নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠা নাসির উদ্দিন খানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সিলেটে তৃণমূল পর্যায়ে।

পেশায় আইনজীবী নাসির উদ্দিন খানকে পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করলে স্বভাবসুলভ হাসি মুখে বললেন, ‘পদের রাজনীতি করি নারে ভাই, তবে হ্যাঁ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করতে সুযোগ পেলে অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে আমি যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে সর্বদাই প্রস্তুত আছি। আর একজন মুজিব সৈনিক হিসেবে বিশ্বাস করি নেতৃত্ব নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিবেকের আদালত কখনোই ভুল করে নাই, আগামীতেও করবেনা ইনশাআল্লাহ।’