সড়কের দুই পাশে গাছ লাগান :প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  আন্তঃজেলা সড়কগুলো চারলেন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সড়ক সংস্কার, বাঁক সোজা করা এবং পুরোনো দুর্বল সেতু বাতিল করে নতুন সেতু নির্মাণ করা। এছাড়া আন্তঃজেলা সড়কগুলো চারলেন করা হবে। সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ৭ হাজার ৩১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৭৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৪ হাজার ২১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি সড়ক সংশ্লিষ্ট। পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এখন প্রধান দুটি লক্ষ্য সড়ক উন্নয়ন এবং বিদ্যুত্ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। সে জন্য একনেক সভায় ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলো। এরমধ্যে সড়কের পাঁচটি প্রকল্প। আমরা সড়কের জাল বিস্তার করেছি। এখন সুফল পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী চান আরো গতি। এজন্য যা যা করার সব করা হবে।

বিগত একনেক সভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসনগুলো একটি পুস্তক আকারে গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন নিয়ে যে বই প্রকাশ করা হয়েছে তাতে তিনি খুশি হয়েছেন। কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটা বলা যায় না, কারণ যখন অনুশাসন দেওয়া হয় এর কাজ তখনই শুরু হয়ে যায়। এসব অনুশাসন অবশ্যপালনীয়। প্রকল্প পরিচালকদের এগুলো মেনেই কাজ করতে বলা হবে। সেই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রক্রিয়াকরণ করার সময় এসব অনুশাসন মিলিয়ে দেখবে।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ১৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পালবাড়ী-দড়াটানা-মনিহার-মুড়ালী জাতীয় মহাসড়ক এর মনিহার হতে মুড়ালী পর্যন্ত চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, ২৪০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সারিয়াকান্দি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন এবং বাঙালি নদীর ওপর আড়িয়ারঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৭২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাগুরা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বাঁক সরলীকরণসহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেনী (মাস্টারপাড়া)-আলোকদিয়া-ভালুকিয়া-লস্করহাট-ছাগলনাইয়া (শান্তিরহাট) জেলা মহাসড়কটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ২০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নাটোর রোড (রুয়েট) হতে রাজশাহী বাইপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৫ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।