ঢাবি ক্যাম্পাসকে ডাস্টবিন বানালো যুবলীগের নেতাকর্মীরা!

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বাংলাদেশের সর্বচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মেধাবীদের লালন, পালন ও পরিচর্যার কেন্দ্রস্থল। কিন্তু, সম্প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিনত হয়েছে ময়লা ফেলার ভাগাড়ে অর্থাৎ ডাস্টবিনে। পাশাপাশি সমগ্র ক্যাম্পাসের দেয়ালে, গাছে এবং ল্যাম্পপোস্টে শোভা পাচ্ছে দেশের সরকার দলীয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ব্যানার – ফেস্টুন।

এছাড়াও, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশে আগত নেতা কর্মীরা তাদের গাড়ি পার্কিং, মল-মুত্র ত্যাগ থেকে শুরু করে খাবারের উচ্ছিষ্ট জমা রাখার জন্য ডাস্টবিন হিসেবে ব্যাবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাকে। আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই দেখা যায় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে সম্মেলনে আগত নেতাকর্মীরা। এতে নিরাপত্তাহীতায় ভোগার অভিযোগ করেন কেউ কেউ।

মল চত্বর

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী বলেন, আমি হল থেকে বের হচ্ছিলাম, রিকশার করে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের ভীড়ে রিকশা সামনে যেতে পারছিলোনা। আমি তাদেরকে সাইড দিতে বললে আমার সাথে রুক্ষ ভাষায় কথা বলে এবং অশ্লীল ইঙ্গিত করে।

অন্যদিকে, কৃষকলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের পোস্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও সৌন্দর্য। এসব ক্ষেত্রে নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ক্যাম্পাসে হাটলে যত্রতত্র চোখে পড়বে সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। যদিও কোন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে কোন পেস্টার লাগানো নিষিদ্ধ তারপরও নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ আছে ক্ষমতাশীন সরকারি দলের পোস্টার, ব্যানার হওয়ায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছেন না প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোন রাজনৈতিক পোস্টার লাগানোর অনুমোদন নেই। সরকার দলীয় ব্যানার পোস্টার হওয়ায় কেউ কিছু বলতে পারছে না। তাবে এগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে তাই অতিদ্রুত এগুলো সরানোর জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো.আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনো ভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য যত প্রতিবন্ধকতা রয়ছে তা মোকাবিলায় প্রশাসন শক্ত অবস্থানে থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বজায় রাখার জন্য আমাদের কঠর নজরদারি রয়েছে। ক্যাম্পাসে থেকে সকল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে তাদের পোস্টার, ব্যানার সরানোর জন্য বলা হয়েছে। যদি তারা না করেন পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।