২৫ নভেম্বর ঢাকা-ভোলা নৌরুটে গ্রীনলাইনের যাত্রা শুরু

সুমন দত্ত: নদীতে ভ্রমণ করতে যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে গ্রীনলাইন ওয়াটার ওয়েজ। অত্যাধুনিক ক্যাটামারান জাহাজ পানিতে নামিয়েছে তারা। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে সফল হওয়ার পর ঢাকা-ভোলা (ইলিশা) রুটে এই সার্ভিস আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির জিএম সারোয়ার আলম। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গ্রীনলাইন পরিবহন ও গ্রীনলাইন ওয়াটারওয়েজের স্বত্বাধিকারী হাজী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন।

আলাউদ্দিন বলেন, গ্রীনলাইন পরিবহন সম্পর্কে আপনারা সবাই জানেন। আমি নিজে কিছু করিনি। সবকিছু করেছে উপর আল্লাহ। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য পরম করুণাময়ের কাছে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। বেশিদিন বাঁচব কিনা জানি না। তবে প্রধানমন্ত্রী ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের কথা বলেছেন। পদ্মা সেতুর পর ওই সেতু তৈরি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সেটা যদি আমি দেখে যেতে পারি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব। আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে ভোলা এমন একটি জায়গা যেখানে কোনো রেলপথ নেই, সড়ক পথ নেই। যাবার একমাত্র রাস্তা নৌপথ। এ জন্য আমরা ঢাকা-ভোলা-ঢাকা নৌপথে সর্বাধুনিক ক্যাটামারান জাহাজ নামিয়েছি। এ ধরনের জাহাজ ঝড়ের মধ্যেও চলতে পারে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। যদি কোনো সমস্যা হয় তবে জাহাজ থেকে যাত্রীদের অন্য একটি জাহাজে করে নিরাপদে সরিয়ে নেবার ব্যবস্থা আছে। এটি অত্যন্ত দ্রুত বেগে চলে। মাত্র ৫ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে ভোলা চলে যাওয়া যাবে।

গ্রীনলাইন সার্ভিসের প্রতিটি জাহাজ এমভি গ্রীনলাইন নামে পরিচিত। আগামী ২৫ নভেম্বর হতে প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিট সদর ঘাটের লালকুঠি ফেরিঘাট থেকে ভোলার উদ্দেশে জাহাজ ছাড়বে। আর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে অন্য একটি জাহাজ রওনা দেবে।

প্রতিটি জাহাজ বিজনেস ও ইকোনমি ক্লাসে ভাগ করা। জাহাজের ওপরের অংশ বিজনেস ক্লাস। যার ভাড়া ১০০০জন প্রতি। আর নিচের ডেক ইকোনমি ক্লাস ৭০০ টাকা জনপ্রতি।

জিপিএস সিস্টেমে পরিচালিত এই জাহাজে ওয়াইফাই সেবা ফ্রি। রয়েছে খাবারের আধুনিক কক্ষ।পুরো জাহাজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। প্রতিটি জাহাজের ধারণ ক্ষমতা ৬০০। বিজনেস ক্লাসে ২০০ আসন, ইকোনমি ক্লাসে ৪০০ আসন রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজে দুটি ইঞ্জিন। যার ক্ষমতা ১২৫০ থেকে ১৫০০ আরপিএম। এই ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে অতিরিক্ত ইঞ্জিন চালু করার ব্যবস্থা আছে। যেটি ২টি ৩০০ কেভিএ ও ৮৫ কেভিএ ব্যাটারি দিয়ে ইঞ্জিনেরন কাজ চালানো হবে। ফরিদপুর শিপ বিল্ডার্স এই জাহাজগুলো নির্মাণ করেছে।

টিকিট বুকিং দিতে গ্রীনলাইন পরিবহনের যেকোনো কাউন্টারে যোগাযোগ করলেই চলবে। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট ও ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটেও বিশেষ টিকিট কাউন্টার থাকবে।