সমান গতিতেই দাম কমছে পেঁয়াজের

নিউজ ডেস্ক:   মিরপুরের আহম্মেদনগরের জোনাকি রোডে ভ্যানে করে এক বিক্রেতা ‘কম দামে পেঁয়াজ’ বলে হাঁকডাক দিচ্ছিলেন। তখন ভ্যানের কাছে গিয়ে দেখা গেল বেশ ভালো মানের আমদানি করা পেঁয়াজ। দর জানতে চাইলে বিক্রেতা জামাল উদ্দিন জানান, ১০০ টাকা কেজি। অথচ তিন থেকে চার দিন আগেও ছিল আড়াইশ’ টাকা। পেঁয়াজের দামের অতি দ্রুতগতিতে অস্বাভাবিক উত্থান হয়েছিল। এখন ঠিক তেমন গতিতে কমছে।

চলতি মাসের শুরুতে দু’সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম তিন গুণ বেড়ে আড়াইশ’ টাকায় পৌঁছে। এর পর গত রোববার থেকে কমছে এ পণ্যটির দর। একদিনের ব্যবধানে গতকাল বুধবারও খুচরায় কেজিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কমেছে। এর আগে গত তিন দিনে কেজিতে ৫০ টাকা কমেছিল। পেঁয়াজের এই দাম কমার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন কৃষকরা। তারা আগাম নতুন পেঁয়াজ গাছসহ বাজারে সরবরাহ বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি উড়োজাহাজে দ্রুত আমদানির ঘোষণাও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে ব্যবসায়ীদের আমদানিও বাজারে সরবরাহ বাড়িয়েছে। তা ছাড়া ক্রেতাদের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। এর ফলে দাম কমছে।

ভ্যানের মতো কম দামে বাজারেও বিক্রি হতে দেখা যায়। গতকাল মিরপুর ১ নং বাজারে প্রতি কেজি দেশি ভালোমানের পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, আমদানি করা মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৩০ টাকা এবং চীন ও মিসরের পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। আর গাছসহ নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। রাজধানীর অন্যান্য খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামের চিত্র প্রায় একই। একদিন আগে খুচরায় ছিল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৯০ টাকা, চীন ও মিসরের পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের পরেই বাড়তে থাকে দাম। এর পর গত অক্টোবরের শেষদিকে কিছুটা কমে আসে। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতে আবার বেড়ে যায়। তবে গত ১৪ নভেম্বর পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২০০ টাকা পৌঁছে। এর পরদিন তা আরও বেড়ে আড়াইশ’ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর দু’দিন পর গত রোববার থেকে পাইকারিতে কমতে শুরু করে দাম। গত তিন দিনে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা কমেছে। দাম কমলেও এখনও স্বাভাবিক দামে আসেনি। এ কারণে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবি। গতকালও সংস্থাটির খোলা ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এবং পেঁয়াজ কিনতে ভিড় দেখা গেছে। এই টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি আরও বাড়াতে আজ রাতে উড়োজাহাজে দেশে পেঁয়াজ আসার কথা। আমদানি করা সব পেঁয়াজ টিসিবির কাছে সরবরাহ করবে এস আলম গ্রুপ।

দাম কমার বিষয়ে মিরপুর ১ নং শাহআলী মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা জিয়া উদ্দিন বলেন, বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। এতে পাইকারি আড়তে চড়া দামের পুরাতন পেঁয়াজের চাহিদা কমেছে। এ কারণে এখন আড়তে দাম কমিয়ে বিক্রি করছেন। ফলে খুচরায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

এই বাজারের মজুমদার ট্রেডার্সের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন মজুমদার বলেন, পেঁয়াজের বেচাকেনা কমেছে। এতে বাজারে দাম কমে যাচ্ছে। মোকামে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দাম কমেছে। আড়তে এখন দাম কমে কেজিতে ১২০ টাকায় দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বড় আড়ত শ্যামবাজারেও পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমেছে। ব্যবসায়ী রতন সাহা বলেন, গতকাল দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও মিসরের পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে কেজিতে আরও ১০ টাকা কমে চীনের পেঁয়াজ ৬০ টাকায় নেমেছে। তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের দর যেভাবে অস্বাভাবিক হয়েছিল, সেভাবেই এখন কমছে। তবে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে না পারলে স্বাভাবিক রাখা দুরূহ হবে।

গত মঙ্গলবার রাতে কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি গাছসহ নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ওই পেঁয়াজ খুচরা ১০০ টাকা কেজিতে বেচাকেনা হয়। এই বাজারে অন্যান্য পাইকারি আড়তের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।