বেশির ভাগ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ

নিউজ ডেস্ক:   নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে চালক ও শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের টানা তিন দিন পর বৃহস্পতিবার বাস চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কিছু কিছু জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে ‍বুধবার দিবাগত রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন বাস, ট্রাক ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরও বিভিন্ন জেলায় দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল ছিল কম।

খুলনা : নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে খুলনায় চতুর্থদিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল শুরু হয়েছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘নতুন সড়ক আইনের কিছু ধারায় মালিক ও চালকদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ কারণে চালক ও মালিকরা ভয়ে গাড়ি বের করছেন না।’

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা থেকেও বৃহস্পতিবার সকালে কোনো রুটে বাস চলাচল করেনি। সাতক্ষীরা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, নতুন আইন সংশোধনের পর বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেয়। সরকারের আশ্বাস পেলেই রাস্তায় নামবে শ্রমিকরা। বাস মালিকরা অনুমতি দিলেই শ্রমিকরা বাস চালানো শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

তবে সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল করিম সাবু বলেন, মালিকরা বাস চালাতে নিষেধ করেনি। শ্রমিকরাই বাস চালানো বন্ধ করেছেন। এ ছাড়া ২১ ও ২২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মিটিং রয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভবত শ্রমিকরা বাস চালাবে না।

নড়াইল : নড়াইলে চতুর্থ দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নড়াইলের কোনো বাস ছাড়েনি।নড়াইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, বাস ধর্মঘট অব্যাহত আছে। আমরা এখনো ঢাকায় আছি। পরে সিদ্ধান্ত জানাবো।

যশোর : যশোর থেকেও বৃহস্পতিবার সকালে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। চারদিন ধরে যশোরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস চালাবেন না।

রাজবাড়ী : ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও রাজবাড়ীতে চলছে না কোনো ধরনের যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার সড়কগুলোতে কোনো বাস-ট্রাকের দেখা মেলেনি। যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

নওগাঁ : নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে নওগাঁতে বাস বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার নওগাঁ থেকে কোনো বাস গন্তব্যে ছেড়ে যায়নি।

শেরপুর : এখান থেকেও দূরপাল্লাসহ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকও চলাচল করছে না। জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গাড়ি চালানোর জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকরা ভয়ে গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। দুপুরে ঢাকায় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বর্ধিত সভা রয়েছে। সেই সভা থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

রাজশাহী : রাজশাহীতে এখনো স্বাভাবিক হয়নি যাত্রীবাহী বাস চলাচল। আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ধীরে ধীরে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এলেও দূরপাল্লা রুটে স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, দূরপাল্লা রুটের কিছু বাস রাজশাহী থেকে ছেড়ে গেছে। কিন্তু জেলার বাইরে গিয়ে আটকা পড়ছে। তবুও কিছু কিছু বাস চলাচল করছে।

বগুড়া : বগুড়াতেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে এখনো বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সীমিত আকারে কিছু বাস চলছে।

কুড়িগ্রাম : সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে আজও কুড়িগ্রাম থেকে সব রুটে বাস, মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জামালপুর : জামালপুরে বাসচালক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও জামালপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ধনবাড়ী এলাকায় শ্রমিকরা এখনো তাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলেও ধর্মঘট পালন করছে বাসচালক ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, এখনো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ ঢাকায় শ্রমিক ফেডারশনের বৈঠক রয়েছে। বাস চলাচলের বিষয়ে ওই বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হবে।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ঢিলেঢালাভাবে বাস চললেও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এর ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। তবে আগামীকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।