কাশ্মীর, অযোধ্যা, রাফাল ও নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের পার্লামেন্ট

নিউজ ডেস্ক:    ভারতের পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে সোমবার। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভা- দুই কক্ষেই শুরু হয়েছে অধিবেশন। অযোধ্যার বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এটিই প্রথম সংসদ অধিবেশন।

ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি এবারের অধিবেশনে উত্তাপ ছড়াবে। আরও দুটি বিষয় নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক হবে। এর একটি নাগরিকত্ব বিল ও অন্যটি কাশ্মীর ইস্যু।

মুসলিম ছাড়া প্রতিবেশি দেশগুলোর অন্য ধর্মাবলম্বীদের ভারতের নাগরিক হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে নাগরিকত্ব বিলে। সমালোচনার মুখে মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদে বিলটি পাস হয়নি। এবার ফের সে চেষ্টা করবে বিজেপি। তবে ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ তুলে এই বিলের তুমুল সমালোচনা করেছে বিরোধীরা।

রোববার সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তার সরকার সমস্ত ইস্যুতেই আলোচনা করতে চায়। এটি মোদির কথার কথা হলেও সব ইস্যুতে আলোচনা ক্ষমতাসীন বিজেপিকে স্বস্তি দেবে না। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধীদল ভারতের অর্থনীতির দুর্দশা নিয়ে হরহামেশা কথা বলছে। সংসদেও তারা বিষয়টি তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার অর্থনীতির দুর্দশার এই সুযোগে ব্যবসা বাড়ানোর অজুহাতে কর্পোরেট ট্যাপ কমানোর অধ্যাদেশ জারি করতে পারে। রাফাল দুর্নীতি নিয়েও স্বস্তিতে নেই বিজেপি সরকার। এই ইস্যুটি তুলেও সরকারকে চেপে ধরতে চাইবে বিরোধীরা। অন্যদিকে আসামের নাগরিকত্ব পঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমুল কংগ্রেস। কারণ এই রাজ্যটিতেও এনআরসির হুমকি দিয়ে রেখেছে বিজেপি। তৃণমুল সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের এনআরসি সংক্রান্ত হুমকি ধমকি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ, রাজ্যে অচলাবস্থা, রাজনীতিবিদসহ সাধারণ মানুষদের আটকাবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল লোকসভা অধিবেশনের শুরুতেই জরুরি প্রস্তাব তোলে কংগ্রেস। এ বিষয়ে তৃণমুলও একটি প্রস্তাব দেয়। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দলটি ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহর বন্দিদশা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রোববার সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী নেতারা ‘ফারুক আবদুল্লাহ কোথায়’ সে প্রশ্ন তোলেন। আটক কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমই বা কেন সংসদে যোগ দিতে পারবেন না সে প্রশ্ন তোলেন আরেক কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ।

মহারাষ্ট্রে কৃষকদের ফসলের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আলোচানর জন্য গতকাল লোকসভায় জরুরি প্রস্তাব তোলে শিবসেনা। রাজ্যে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার ছাড়াছাড়ি হয়েছে ইতোমধ্যে। ক্ষমতার হিস্যা নিয়েই মূলত উগ্র হিন্দুত্ববাদী এ দুটি দলের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর পরম্পরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে শিবসেনা এখন বিরোধী দলে। লোকসভায় শিবসেনার ১৮ এমপির বসার ব্যবস্থা হয়েছে তাই বিরোধীদের সারিতে। দলটির রাজ্যসভার তিন সদস্যও বিরোধীদের আসনে বসেছিলেন গতকাল।

এদিকে সোমবার ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার ২৫০তম অধিবেশনের শুরুর দিনে ভাষণ দিয়েছেন মোদি। তিনি বলেছেন, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সংসদের উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে ভারসাম্যের অর্থ যেন বাধা দেওয়া না হয়। এসময় তিনি বিজেপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িকে স্মরণ করেন।

রাজ্যসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মহারাষ্ট্রের শারদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ও বিহারের বিজু জনতা দলের ব্যাপক প্রশংসা করেন মোদি। তিনি বলেন, এই দুটি দল সঠিকভাবে সংসদীয় নিয়মকানুন মেনে চলে। বিজেপিসহ অন্য দলগুলো এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। মোদি এমন এক সময় এ মন্তব্য করলেন যখন মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসকে নিয়ে শিবসেনার সঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে এনসিপি। ঠিক এদিনই বিজেপির দীর্ঘদিনের মিত্র শিবসেনার সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের দুই কক্ষেই বিরোধীদের সারিতে বসতে শুরু করেছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবসেনার কাছ থেকে এনসিপিকে দূরে সরিয়ে রাখতে নানা প্রকারে চাপ প্রয়োগ শুরু করেছে। সূত্র:ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।