হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

সুমন দত্ত: সরকার দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী দলিত হরিজনদের কলোনি উচ্ছেদ করছে। সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীর ওপর অমানবিক এই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ নিয়ে তারা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ফেরদৌস, হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ লাল। এদিন তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা উচ্ছেদ আক্রান্ত হরিজন সমাজের প্রতিনিধিরা।

নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, উন্নয়নের নামে সরকার ঢাকার গোপীবাগ রেল কলোনি, ময়মনসিংহ সদর থানার কেওয়াটখালী হরিজন কলোনি, নাটক ঘর লেইন হরিজন কলোনি, হবিগঞ্জ জেলার সায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে হরিজন কলোনি, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ের হরিজন কলোনি,কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ের মেডিকেল হরিজন কলোনি, পাবনার ঈশ্বরদী থানার নতুন হাট হরিজন কলোনি, গাজীপুর জেলার টঙ্গী হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে হাজারো পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে বাস করা এই পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন না করে সরকার অমানবিক কায়দায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। এতে হরিজন সমাজের বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সরকারের উন্নয়নে হরিজন সমাজ বাধা হতে পারে না। কিন্তু তাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো দু:খজনক। দেশ স্বাধীনের পর ও আগে যারাই ক্ষমতায় ছিল তারাই হরিজন সমাজকে এসব জায়গায় থাকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। এই জায়গা গুলো তখন নোংরা ছিল। আজ এসব জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়ায় অনেকের দৃষ্টি এসবের ওপর পড়েছে। যে কারণে তথাকথিত উন্নয়নের নামে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্ছেদ বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দেশের হরিজনরা অত্যন্ত কষ্টে দিন যাপন করছে বলে তিনি জানান।

কৃষ্ণলাল বলেন, হরিজনরা সরকারের উন্নয়নে বাধা হবে না। তারা চায় তাদের বসবাসের জায়গা ঠিক করে এরপর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হউক। সরকার হরিজনদের জন্য স্থায়ী, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত আবাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করুক। যেসব জায়গায় হরিজনরা ব্রিটিশ আমল থেকে যুগ যুগ ধরে বাস করছে তাদেরকে ভূমির মালিকানা দেয়া হউক।সম্ভব হলে সরকারি খাস জমিতে হরিজনদের পুনর্বাসন করতে হবে।

ড. রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, মানুষকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন হয় না। উন্নয়নের নামে এভাবে উচ্ছেদ অভিযান চলতে পারে না। সরকারকে অবশ্যই প্রান্তিক এই গোষ্ঠীর দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এরা সমাজের অত্যন্ত নিচুস্তরে থাকে। তারা যে কাজগুলো করে তার মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প হতে পারে না। আজ দেশে হরিজনদের জায়গা জমি ও চাকরি অন্য সম্প্রদায়ের লোকজন কেড়ে নিচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রকে হরিজনদের স্বার্থরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি জানান।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম