সেই পাখির বাসা স্থায়ী করার প্রস্তাব সরকারের

নিউজ ডেস্ক:    রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের সেই শামুকখোল পাখির বাসা স্থায়ী করতে চায় সরকার। সম্প্রতি পাখিদের বাসা ভাড়া হিসেবে বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক। তবে মন্ত্রণালয় পাল্টা প্রস্তাবে জানিয়েছে, ভাড়া নয়, পাখিদের জন্য স্থায়ী আবাস তৈরিতে ওই আমবাগানসহ সংশ্লিষ্ট জমিই অধিগ্রহণ করতে চায় মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবনাটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে পাখিগুলো প্রতিবছর একই গাছে বা বাগানে বাসা বাঁধে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান।

তিনি বলেন, ওই পাখিরা প্রতি বছর একই গাছে বাসা বাঁধে না। চার বছর আগে ওই গ্রামের আমবাগানে এসেছে। আগামী বছর আবার অন্য কোথাও চলে যেতে পারে।

এজন্য বাগানটি পাখিদের অভয়ারণ্য ঘোষণা করা ঠিক হবে কিনা সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। কারণ এর আগে পাখিরা বাঘার পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের আবদুল হামিদ মাস্টারের আমবাগানে বাসা বেঁধেছিল বলেও জানান তিনি।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, পাখির বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা চেয়ে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। গত ৫ নভেম্বর প্রস্তাবনাটি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাখিদের জন্য ওই জমিটিই অধিগ্রহণের পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, স্থায়ী অভয়ারণ্য করা গেলে পাখিরা আর অন্য কোথাও যাবে না। পাখিদের স্থায়ী আবাস তৈরি করা হলে তাদের কেউ বিরক্তও করবে না। তাই এজন্য এর সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই ও প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

পাখিদের স্থায়ী আবাসনের জন্য আমবাগানসহ অন্তত ১০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওই জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাবের চিঠি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানোর কথা রয়েছে।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজার নেতৃত্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাগানে গিয়ে দেখেন, মোট ৩৮টি আমগাছে বাসা বেঁধেছে শামুকখোল পাখিগুলো। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পর তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেন।

জরিপ শেষে ওই আমগাছগুলো থেকে বছরের সম্ভাব্য আম উৎপাদন ও তার সম্ভাব্য দাম নিরূপণ করেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে বাগান মালিক বা ইজারাদারের। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পর তারা রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেন। নিরীক্ষণের পর প্রস্তাবনাসহ সেই প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠান জেলা প্রশাসক।

উল্লেখ্য, চার বছর হলো পাখিগুলো ওই আমবাগানে বাসা বেঁধেছে। বর্ষার শেষে এসে তারা বাগানে বাচ্চা ফুটিয়েছে। বাচ্চাগুলো উড়তে শিখলে শীতের শুরুতে এরা আবার চলে যাবে। তবে এখন প্রায় সারা বছরই থাকে।