রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

নিউজ ডেস্ক:   রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত আর রাখাইনে তাদের ফেরাটা টেকসই করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তোলা প্রস্তাব পাস হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদকে অব্যাহতভাবে বলার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়।

প্রস্তাবের ২০ দফার সুপারিশে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকালের প্রস্তাবটিতে নিরাপত্তা পরিষদকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। এতে করে এটি নিরাপত্তা পরিষদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করবে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ও প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিসহ সুনির্দিষ্ট ১০টি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতকে মাঠের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকালের প্রস্তাবের পক্ষে ১৪০টি ও বিপক্ষে ৩২টি দেশের ভোট পড়েছে। আর ৯টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই রেজল্যুশন ডিসেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। ওআইসি ও ইইউর পক্ষে প্রস্তাবটি এবার উপস্থাপন করে যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিনল্যান্ড।

২০১৮ সাল থেকে ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে মিয়ানমার সংকট নিয়ে তৃতীয় কমিটিতে প্রস্তাবটি তুলছে এবং প্রতিবারই বিপুল ভোটে তা গৃহীত হচ্ছে। এবারের প্রস্তাবটি মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপকে শুধু জোরদারই করবে না, বরং তা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তৃতীয় কমিটিতে পাস হওয়া গতকালের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর কিছু সুপারিশ স্থান পেয়েছে। এবারের গৃহীত প্রস্তাবে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম’ শব্দটির অন্তর্ভুক্তও তাৎপর্যপূর্ণ।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এটিকে আমরা শুধু একটি দেশভিত্তিক প্রস্তাব হিসেবেই দেখছি না, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি দায়বদ্ধতার দলিল, যার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন।’