মোদির সমালোচনা করায় নাগরিকত্ব হারালেন সাংবাদিক

নিউজ ডেস্ক:   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে ভারতীয় নাগরিকত্ব হারিয়েছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সাংবাদিক। প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা করে টাইম ম্যাগাজিনে নিবন্ধ প্রকাশ করায় আতিশ তাসির নামের ঐ সাংবাদিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি ভারতে তার প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত মে মাসে তাসির বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রথম পাতায় নিবন্ধ লেখেন। ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে প্রকাশিত নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘ইন্ডিয়া’স ডিভাইডার ইন চিফ’। পুরো প্রতিবেদনে মোদির নেতৃত্বের সমালোচনা করা হয়। ঐ প্রতিবেদন ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদিও এর সমালোচনা করেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার তাসিরের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার ভারতে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নাগরিকত্ব হারিয়ে গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তাসির বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ খুবই সন্দেহজনক। তারা আমাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করছে। আমাকে দিয়ে অন্য সাংবাদিকদের বার্তা দিচ্ছে। তাসির বলেন, ভারতে মোদি সরকার মিডিয়ার অবস্থা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ফেলেছে। সমালোচকদের স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তাসির জানান, ‘আমার ক্ষেত্রে যা হয়েছে তা থেকে বোঝা যায়, যারা মনে করেন যে তারা বিদেশে থাকেন বা বিদেশি প্রকাশনায় লেখা ছাপাবেন, তারাও আর নিরাপদ নন’। যদিও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, তাসির তার নাগরিকত্বের আবেদনে এই তথ্য লুকিয়েছিলেন যে তার মৃত পিতা ছিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এর ফলে তিনি বৈদেশিক নাগরিকত্বের অযোগ্য ছিলেন।

এই সম্পর্কে তাসির বলেন, পৈতৃক সূত্রে তার পাকিস্তান সংযোগের কথা কখনই অজানা ছিল না। তাকে কখনোই আনুষ্ঠানিক নোটিস দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার একটি টুইট থেকে নাগরিকত্ব হারানোর খবর জানতে পারেন তিনি। তাসিরের পিতা সালমান তাসির ব্রিটিশ ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি পরে পাকিস্তানি নাগরিকত্ব বেছে নেন। তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নরের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১১ সালে ধর্ম অবমাননা আইনের বিরোধিতা করায় সালমান তাসিরকে হত্যা করে উগ্রবাদীরা।