বুলবুলের তাণ্ডবে এলোমেলো কাউখালী

নিউজ ডেস্ক:   ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পিরোজপুরের কাউখালীতে সাড়ে তিন ঘণ্টার তাণ্ডবে তার ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা আর ফসলের মাঠে। রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে আঘাত হানে বুলবুল। প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ের তাণ্ডব চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে। রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ও তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক।

এ ছাড়া বুলবুলের প্রভাবে সন্ধ্যা ও কচাঁ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জোয়ারের পানি ফসলের মাঠ ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে কয়েকশ পুকুর ও ঘেরের মাছ।

এদিকে ঝড়ের প্রভাব কেটে যাওয়ায় দুপুরর পর থেকে লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা আশ্রয় কেন্দ্রেই অবস্থান করছে। দুপুরে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

কাউখালী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিলটন, চিরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদ খান খোকন, আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুদ্দোহা চাঁন এবং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ, শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সিকদার জানান, তাদের পাঁচটি ইউনিয়নে ঝড়ে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ঘর গাছ উপড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ছোটবড় গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে। সহস্রাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ ও মৎস্য কর্মকর্তা ফনি ভুষন পাল জানান, কৃষি ও মৎস্য সেক্টরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. খালেদা খাতুন রেখা বলেন, ঝড়ে উপজেলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসনের গঠিত টিম মাঠে নেমেছে। পূর্বপ্রস্তুতি থাকায় ক্ষতি বহু অংশে কম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে আশ্রিতদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।