শিরোপা জেতা হলো না চট্টগ্রাম আবাহনীর

নিউজ ডেস্ক:    শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতা হলো না চট্টগ্রাম আবাহনীর। ঘরের মাঠ, দর্শক-সমর্থকও নিজেদের অনুকূলে; তারপরও শিরোপায় চুমু আঁকতে পারলেন না জামাল, ইয়াসিনরা। ফাইনালে মালয়েশিয়ার ক্লাব তেরেঙ্গানু এফসির কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে গেল বন্দরনগরীর দল।

গতকাল বৃহস্পতিবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে শুরুতেই চট্টগ্রামকে চাপে ফেলে দেয় লি টাকদের দল তেরেঙ্গানু। ১৫ মিনিটে হাকিম বিন মামাতের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়ান ক্লাব (১-০)। ২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আজানিলুল্লাহ বিন আলিয়াস (২-০)। আচমকা দুই গোল খেয়ে হতবাক স্বাগতিক দর্শকরা। পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠে মারুফুল হকের দল। কিন্তু প্রথমার্ধে আর গোল শোধ দিতে পারেনি। দু-চারটি আক্রমণ করলেও সেগুলো গোলের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করে শিরোপা জয়ের আশা জাগিয়ে তোলে চট্টগ্রামের বিদেশি রিক্রুট লুকা রতকোভিচ (২-১)। গোলের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে চট্টলার দল। তেরেঙ্গানু ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে। চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ২০১৫ সালের পর শিরোপা জেতার হাতছানি ছিল চট্টগ্রামের সামনে। তেরেঙ্গানুর শক্তির সামনে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করে স্বাগতিকরা।

এই আসরেই চট্টগ্রাম আবাহনী সেমিফাইনালে ভারতের ক্লাব গোকুলাম কেরালার বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে থেকে পরে ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখান থেকে ম্যাচ জিতে উঠে আসে ফাইনালে। সেমির ধারাবাহিকতা ফাইনালে আর ধরে রাখতে পারেনি দলটি। ফাইনালের আগে তেরেঙ্গানুর শক্তি এবং দুর্বলতা নিয়ে অনেক কাজ করেছে চট্টগ্রামের কোচ মারুফুল হক।

এমন কী ফাইনালে তেরেঙ্গানুর অধিনায়ক লি টাককে নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা ছিল। মানিক মোল্লাহকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন যেন লি টাক গোল করতে না পারে। পরিকল্পনায় সফল মারুফ। লি টাক গোল পাননি। তবে লির দিকে বেশি নজর দিতে গিয়ে অন্যদের আটকানোর কথা বোধ হয় ভুলেই গিয়েছিল চট্টগ্রামের ডিফেন্ডাররা, যার খেসারত হেরে দিতে হয়েছে।

২০১৫ সালে শেখ কামাল টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু। প্রথম আসরেই বাজিমাত আয়োজক ও স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনীর। ফাইনালে ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় তারা। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আসর। সেবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় চট্টগ্রাম। এবার তৃতীয় আসরে ফাইনালে এলেও শেষরক্ষা হয়নি, রানার্স আপে সন্তুষ্ট থাকতে হলো জামালদের।