বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতার বৃদ্ধি করে লোকশান কমানোর এথনি সময়

নিউজ ডেস্ক:   বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৯ হাজার মেগাওয়াট। গত ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট। এ পর্যন্ত দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ১২ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। এটা অবশ্য গরমকালের চিত্র। শীতকালে চাহিদা ছয় থেকে সাত হাজারে নেমে আসে। চাহিদা না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটা বড় অংশ অলস বসে থাকে। বেসরকারি এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ না নিলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ হিসেবে বিল পরিশোধ করতে হয়। বিদ্যুৎ না নিলেও এই ক্যাপাসিটি চার্জ বা ভাড়া বাবদ গত ১২ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের দিতে হয়েছে ৫৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে এমনটা হয়েছে বলে বিশ্নেষকরা মনে করছেন।

এ সময়ে দরকার না থাকলেও বেসরকারি খাতে নতুন নতুন আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এতে সরকারের খরচ বাড়ছে। পকেট ভারী হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এত ব্যবসার পরও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা সরকারের কাছে আরও সুবিধা চাইছেন।

ক্যাপাসিটি চার্জ কী: বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের যাতে লোকসান না হয়, সে জন্য অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে বিনিয়োগকৃত অর্থ হিসাব করে একটি নির্দিষ্ট হারে ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এ অর্থ পান উদ্যোক্তারা। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ কম বলে এগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক বেশি। ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয় তার দক্ষতার ওপর। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির সময় প্রকৃত দক্ষতা বেশি করে দেখানো হয়, যাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি হয়। দক্ষতা কম থাকায় চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিগুলো। এতে উৎপাদন কম হয়। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ মেলে ঠিকই।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অধিকাংশই পুরনো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেছে। তাই তাদের দক্ষতা যা বলা হয়, পাওয়া যায় তার কম। এ জন্য এগুলো চলেও কম।

কেন রেন্টাল-কুইক রেন্টাল: বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি সামাল দিতে স্বল্প সময়ের কথা বলে ব্যয়বহুল ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল-কুইক রেন্টাল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। কিন্তু বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বশীলদের সঠিক ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে এই ‘সাময়িক উদ্যোগ’ স্থায়ী হয়ে গেছে। বারবার মেয়াদ বেড়েছে রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর। আমলাদের অতি উৎসাহে রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুযোগ দিতেই এ রকম ক্ষতিকর পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, বিনিয়োগ উঠলেও চুক্তি নবায়নের সময় ক্যাপাসিটি চার্জ খুব বেশি কমছে না। আবার দাম বেশি- এমন যুক্তিতে এসব বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কম কেনা হচ্ছে। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে ঠিকই।

ক্যাবের হিসাব: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ-সংক্রান্ত বেসরকারি সংস্থা ক্যাবের এক হিসাবে দেখা গেছে, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধির সময় ক্যাপাসিটি চার্জ যৌক্তিক হারে কমানো হলে শুধু ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮৫৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়বহুল রেন্টাল প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লেও মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহক। অন্যদিকে, ব্যয়বহুল প্রকল্পের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, বাড়াতে হচ্ছে বিদ্যুতের দামও। কয়েক বছরে গ্রাহক পর্যায়ে দ্বিগুণ হয়েছে বিদ্যুতের দাম।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বিভিন্ন মহলের স্বার্থজনিত নানা কারণে বিদ্যুৎ খাতে এ অবস্থা। তিন বছরের রেন্টাল প্রকল্প ১০ বছরের জন্য ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে। বিপরীতে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সরকারের ভর্তুকি বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। চাপে পড়েছে অর্থনীতি। তিনি বলেন, চাহিদা না থাকার পরও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে সরকার-ঘনিষ্ঠদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী যা বললেন: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকারের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সময়মতো চালু করতে না পারায় রেন্টাল প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসতে আরও সময় লাগছে। মধ্যবর্তী চাহিদার কথা মাথায় রেখেই রেন্টাল প্রকল্পগুলো চালু রাখা হয়েছে। তবে মেয়াদ বাড়ানোর সময় বিদ্যুতের দাম কমানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখেই ব্যবসা: ডিপিএ পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জের ৫০ মেগাওয়াটের একটি কুইক রেন্টাল কেন্দ্র রয়েছে। ডিজেলচালিত কেন্দ্রটির ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্লান্ট-ফ্যাক্টর ছিল মাত্র ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ সে বছর কেন্দ্রটি তার সক্ষমতার মাত্র ১৯ শতাংশ সময় উৎপাদনে ছিল। যেখানে চুক্তির সময় সাধারণত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্লান্ট-ফ্যাক্টর ধরা হয় ৮০ শতাংশের ওপরে। ২০১৬-১৭-তে ডিপিএ পাওয়ার সরকারের কাছ থেকে আয় করে ২৪২ কোটি টাকা। বছরে একটা বড় সময় বন্ধ থেকেও এত বেশি আয়ের কারণ হলো ক্যাপাসিটি চার্জ বা ভাড়া। এটা এনার্জি বিলের (জ্বালানি খরচ ও সংস্কার ব্যয়) বাইরে। বিদ্যুৎ না কিনলেও উদ্যোক্তাকে এই অর্থ দিতে হয়। ২০১০ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া ডিপিএ পাওয়ারের কেন্দ্রটির চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে উদ্যোক্তা শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে পেয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা। এর পর আরও পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটি ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে আনুমানিক ৪৯৪ কোটি টাকা পাবে। অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও বিল দিতে হচ্ছে। এভাবে সরকারি কোষাগারের টাকা চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের পকেটে।

রেন্টাল-কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের অধিকাংশই তেলভিত্তিক। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ব্যয়ে ভারসাম্য রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো প্রাধান্য পায়। ফলে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কম চালানো হয়। যখন চাহিদা বেড়ে যায়, তখন তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালানো হয়। বিদ্যুৎ না কিনলেও ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট অর্থ উদ্যোক্তাদের দিতে হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র না চললেও রেন্টাল-কুইক রেন্টাল উদ্যোক্তাদের আয় থেমে থাকে না।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, পাঁচটি ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র সারা বছরে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সময় চালু ছিল। অর্থাৎ বছরের বেশির ভাগ সময় বসে থেকে এসব কেন্দ্র পিডিবির কাছ থেকে আলোচ্য অর্থবছরে এক হাজার ১৪২ কোটি টাকা আয় করেছে।

ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় বাড়ছে: মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ পিডিবির ব্যয় বেড়ে চলেছে। গত ১২ বছরে সংস্থাটিকে এ বাবদ গুনতে হয়েছে ৫৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। পিডিবির তথ্যমতে, ২০০৭-০৮ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত ১২ বছরে বেসরকারি খাত থেকে কেনা হয় ২২ হাজার ১৪৫ কোটি ৭৪ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ। এ জন্য পিডিবিকে পরিশোধ করতে হয় এক লাখ ৩৮ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৫৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিদ্যুৎ বিল হিসেবে দেওয়া হয় ২০ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয় ১৬ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে দেওয়া হয় ছয় হাজার ২৪১ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা আয় করেন ১৪ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল পাঁচ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। এভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চার হাজার ৬৬৪ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চার হাজার ৭১৪ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৪৯০ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে পাঁচ হাজার কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই হাজার ৯৭৩ কোটি, ২০০৯-১০ অর্থবছরে এক হাজার ৭৯০ কোটি, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এক হাজার ৫০৬ কোটি ও ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এক হাজার ২৮০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই আয় করেছেন উদ্যোক্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সমকালকে বলেন, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতেই ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়। চুক্তি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।

ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা: রেন্টাল-কুইক রেন্টাল প্রকল্পগুলোর একাধিকবার মেয়াদ বেড়েছে। সূত্র জানিয়েছে, অধিকাংশ উদ্যোক্তা প্রথম মেয়াদেই বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন। তাই পরে চুক্তি নবায়নে ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক কমে আসার কথা। বাস্তবে তা ঘটেনি। প্রথম চুক্তির সময় প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসে ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ ১৩ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। চুক্তি নবায়নের সময় এগুলো কমিয়ে ১২ থেকে ২০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাস্তবে এটা আরও কমা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পিডিবির এক হিসাবে দেখা গেছে, চুক্তির প্রথম মেয়াদে ১০০ মেগাওয়াটের একটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে গড়ে ৬৬৬ কোটি টাকা নিয়েছে। মেয়াদ বাড়ায় কেন্দ্রের উদ্যোক্তা আরও ৬৩৬ কোটি টাকা পাবেন ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে। যেখানে ১০০ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হয় ৩২০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা।

আরও সুযোগ চান বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা: বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ট্যাক্স মওকুফ, নির্মাণে শুল্ক্কমুক্ত যন্ত্রপাতি আমদানি, বিদ্যুৎ না কিনলেও ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) দেওয়া, জ্বালানি ব্যয় বহনসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ২০১০ সাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রেও অংশ নেওয়া লাগছে না বেসরকারি উদ্যোক্তাদের। এর পরও আরও সুযোগ চাইছেন বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) নেতারা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে প্রায় ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।

এগুলোর মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের বিলুপ্তি, খুচরা যন্ত্রপাতি আমদানি এবং জমি কেনার কর মওকুফ, ২২ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্সের মেয়াদ ৩০ বছর করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী নিজেরা ফার্নেস অয়েল আমদানি করেন। বাকিদের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করে। বিপিসির তেলের মান কম- এমন অজুহাতে এখন বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা নিজেরাই চাহিদার পুরো ফার্নেস অয়েল আনতে চাইছেন। যদিও চুক্তি অনুসারে এই তেলের মূল্য পরিশোধ করে পিডিবি। গত ১১ জুলাই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বিআইপিপিএ। এ বিষয়ে নসরুল হামিদ সমকালকে বলেছেন, তারা (বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা) আমার কাছে এসেছিলেন কিছু দাবি নিয়ে। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করছি।

তারপরও বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা এখন উদ্বৃত্ত। চাহিদা নেই। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকছে। এরপরও একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। চলছে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ। যেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের গবেষণা শাখা পাওয়ার সেল বলছে, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন নেই। পাওয়ার সেলের মতে, ২০৩১ সালে দেশে চাহিদা থাকবে ২৯ হাজার মেগাওয়াট। অনুমোদন পাওয়া ও নির্মাণ প্রক্রিয়া থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর ওই সময় বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৩৭ হাজার মেগাওয়াট। এখন আর নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু গত জুলাই মাসেই বেসরকারি খাতে ৫৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি করেছে পিডিবি। এর আগে চাহিদা না থাকার পরও ২০১৭ সালের দিকে ব্যয়বহুল ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের এক হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয় সরকার। এসব কেন্দ্র পাওয়ার সেক্টর মাস্টারপ্ল্যানে নেই।

বাড়ছে বিদ্যুতের দাম: রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কয়েক বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়েও দাম বাড়াতে হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প-বাণিজ্যে ব্যয় বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। সরকারের ভর্তুকি বেড়েছে। চাপে পড়েছে অর্থনীতি।