‘ব্যাগে হাত-পা বিহীন লাশের রহস্য উন্মোচন জীবনের সেরা সাফল্য’ : শাহ আবিদ

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ
‘বোমা ভর্তি ট্রলি লাগেজ সন্দেহে সারারাত পুলিশের সতর্ক পাহারা, অবশেষে ঢাকা থেকেবোমা নিষ্কৃয়করণ টীম এসে ব্যাগটি খুললে ধরা পড়ে মাথা ও হাত-পা বিহীন একজন মানুষের লাশ। অজ্ঞাতনামা এই লাশ উদ্ধারের মাত্র ৮ দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর ট্রলি লাগেজে মাথা ও হাতবিহীন খন্ডিতলাশের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ৪জনকে গ্রেফতার করে করা হয়েছে। এটা আমার জীবনের সেরা ডিডেকশান বলে আমি মনে করি। ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের বড় একটি সাফল্য’ বলে সন্তব্য করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত)। বুধবার ৩০ অক্টোবর সকালে পুলিশ লাইনের দরবার হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অসাধারণ ডিডেকশান করেছে।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) পুলিশ সুপার জানান, ময়মনসিংহে গত ২০ অক্টোবর নগরীর পাটগুদাম ব্রীজ সংলগ্ন চাঞ্চল্যকর ট্রলি লাগেজে মাথা ও হাতবিহীন খন্ডিতলাশ পাওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম বকুল (২৮)। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা পূর্বধলা উপজেলার হুগলা বাজার সংলগ্ন ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। সেই সাথে নিহতের প্রতিবেশী হত্যাকারী ৪ আসামীকেও গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা বাজার সংলগ্ন মোঃ বাবুল মিয়ার পুত্র ফারুক মিয়া (২৫), মোঃ হৃদয় মিয়া (২০) ও তাদের বোন সাবিনা আক্তার এবং ফারুক মিয়ার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২২)।

পুলিশ সুপার আরো জানান, ১৯ অক্টোবর শেষ রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা এলাকায় আসামীদের ভাড়া বাসায় হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। ২০ অক্টোবর ভোরে আসামী ফারুক মিয়া খন্ডিত লাশের বডি ট্রলি লাগেজে ভরে ময়মনসিংহ নগরীর পাট গুদাম ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে ফেলে পুর্বধলা গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এদিকে ফারুকের স্ত্রী আসামী মৌসুমী ও বোন সাবিনা একই দিনে নিহতের খন্ডিত মাথা ও হাত-পা একটি ব্যাগে করে নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে ফেলে দেয়।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, তাকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, খন্ডিত মাথা ও হাত-পা- বহনকারী ব্যাগ গাজীপুর বানিচালা ও পুর্বধলা থেকে উদ্ধার করেছে। আসামীরা বলেছে, নিহত বকুল ফারুক ও হৃদয়ের বোন সাবিনাকে প্রায় উত্তপ্ত করতো। এছাড়াও প্রতিবেশী হিসেবে পারিবারিক তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর সকালে ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রীজ সংলগ্ন লাশ ভর্তি লাগেজ ব্যাগটি ফেলে যাওয়ার পর সারাদিন সেখানে পরে থাকে। সন্ধ্যার দিকে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের নজরে আসে। তারা ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেয়। ডিআইজি ও পুলিশ সুপার সহ পুলিশের সর্ব স্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগে বিস্ফোরক দ্রব্য সন্দেহ করে ঢাকায় বোমা ডিসপোজল ইউনিটকে খবর দেয়। ২১ অক্টোবর সকালে ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজল ইউনিট এসে পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে ব্যাগটি খুলে হাত-পা ও মাথাবিহীন লাশ লাশ পান। বিকালে কুড়িগ্রামে সদর থানা ঐলাকায় একটি কাটা পা উদ্ধার হয়। ২২ অক্টোবর কুড়িগ্রামের রাজাপুর থানা এলাকায় একটি ব্যাগে কাটা পা ও দুটি হাতা ও ব্যানেটি ব্যাগে মাথা পাওয়া যায়। এনিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদরের কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়া মোজাফর আলীর কন্যা।

এঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় ধারা -৩০২/২০১/৩৪ পেনাাল কোড অনুযায়ী ১০২ নং মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি তদন্তভার দেয়া হয়। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শ্হা কামাল আকন্দ। মামলাটি তদন্ত কালে কুড়িগ্রামে পাওয়া ব্যাগে চিরকুটের সুত্র ধুরে গত ২৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে উল্লেখিত ৪জনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে চিরকুটে কি লেখা ছিল তা প্রকাশের করেন পুলিশ সুপার।

সাংবাদিক সম্মেলনে পুরিশ সুপার হুমায়ন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম নিওয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ আল আমীন, ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম তদন্তে অংশ গ্রহণকারী কর্মকর্তাগন।