ব্রহ্মপূত্রের শাখা নদী ঝিনাই, বংশী ও বানার খননের পরিকল্পণা

 

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :
এককালের খর¯্রােতা এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ পুরনো ব্রহ্মপুত্র খননের পাশাপশি আরো প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপূত্রের শাখা ঝিনাই, বংশী ও বানার নদী খননে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পটির ইতিমধ্যেই প্রিএকনেক সম্পন্ন হয়েছে। একনেকে পাস হলেই শুরু হবে এই তিনটি নদীর খনন কাজ। এছাড়াও ব্রহ্মপূত্র নদের ৯০ কিলোমিটার খননকাজে ২৩টি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত ড্রেজিংকাজ চলছে বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার।

চলমান ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠান সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার এসব তথ্য জানান।
খোন্দাকার মোস্তাফিজুর রহমান সভায় জানান, ব্রহ্মপূত্র নদ খননের পাশাপাশি ময়মনসিংবাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে একটি নৌ বন্দর স্থাপন, মাছের অভয়ারণ্য ও নদের দুধারে পরিকল্পিত বনায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দেয়া হবে। মানসম্মতভাবে নদ খননে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন ব্রহ্মপূত্র নদ খননের পাশাপাশি সিএস, আরওআর ও আরএস পর্যালোচনা করে ব্রহ্মপূত্র নদের সীমানা চিহ্নিত ও পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সীমানা নির্ধারণের পর অবৈধদখলদার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

চলমান ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ দিদার এ আলম, পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের ময়মনসিংহের সভাপতি অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহম্মদ লিটন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম ও টিলিভিশন জার্ণালি এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় প্রমূখ।

বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার আরো জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে গাজীপুরের কাপাশিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদের ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। ৩২০ ফুট প্রশস্ত এবং শুকনো মৌসুমে ১০ফুট গভীরতা নিশ্চিত করে নদটি খনন করা হবে। ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খননে মোট ৮.৮ কোটি ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম আরো জানান, ইতিমধ্যেই জামালপুর অংশের ব্রহ্মপূত্র নদের খনন কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী মাসে দাখিলকৃত দরপত্রগুলোর মূল্যায়ন করা হবে।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নদটির নাব্যতা ফেরাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজ করার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বরে ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের ভিত্তি নাম ফলক উন্মোচন করেন।