ইসকনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ইনকিলাব নয়াদিগন্তের পর জনকণ্ঠ

সুমন দত্ত: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকনের) বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার ও গুজব সৃষ্টি করে চলেছে। আর এতে সহায়তা করছে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। পাশাপাশি এদের হয়ে দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক ইনকিলাব সর্বশেষ দৈনিক জনকণ্ঠ ইসকনের নামে ভুয়ো বানোয়াট খবর প্রকাশ করে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে।

এই অপপ্রচার ও গুজব রটানোর প্রতিবাদে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ইসকন। এতে বক্তব্য রাখেন ইসকনের বাংলাদেশ শাখার সভাপতি সাবেক ডিআইজি (অবসর) সত্য রঞ্জন বাড়ই। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইসকনের সাবেক সভাপতি কৃষ্ণকীর্তন দাস ব্রহ্মচারী ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সুখি সুশীল ব্রহ্মচারীসহ প্রমুখ। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পড়ে শোনান কৃষ্ণকীর্তন দাস ব্রহ্মচারী। আর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ই ও কৃষ্ণর্কীতন দাস ব্রহ্মচারী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রীতি বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যা থেকে শুরু করে সদ্য হয়ে যাওয়া বোরহানউদ্দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসকনের নামে অপপ্রচার ও গুজবে জড়িয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। এদের মধ্যে আবরারের ঘটনায় দৈনিক নয়াদিগন্ত ও দৈনিক ইনকিলাব তাদের প্রথম পাতায় ইসকনকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। তাদের সংবাদের শিরোনাম ছিল আবরার হত্যার মূলচক্রী অমিত সাহা উগ্রবাদী ইসকনের সদস্য। এই সংবাদ ডাহা মিথ্যা, ভুয়া ও বানোয়াট। অমিত সাহা ইসকনের কোনো সদস্য নয়। কোনো কালে ইসকনের সংশ্লিষ্ট ছিলও না। এরপর বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় দৈনিক জনকণ্ঠ গত ২৩ অক্টোবর ইসকনকে জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। এই সংবাদটিও ভুয়া ও বানোয়াট। হিন্দু ছেলে বিপ্লব চন্দ্র শুভর আইডি হ্যাক করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সেই বিপ্লব চন্দ্র শুভ ইসকনের কোনো সদস্য নয় এবং কোনো কালে ছিলও না।

এভাবে ইসকনকে জড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার হচ্ছে। এতে মহল বিশেষের হীন চক্রান্ত রয়েছে। এমনটাই মনে করে ইসকন। এরপর ইসকনের ওপর হামলা হতে পারে এমন একটি সংবাদ দেশি বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তাই সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে ও ইসকনের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসকন।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ইসকন কুচক্রী মহল বলতে কাদের বুঝিয়েছে? জবাবে ইসকনের সভাপতি বলেন, চরমোনাইর পীর, হেফাজতে ইসলাম ও তৌহিদি জনতা এরাই ইসকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখছে। যা মিডিয়ায় এসেছে। এরাই কুচক্রী মহল।

নয়া দিগন্ত ও দৈনিক ইনকিলাব ইসকনকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? জবাবে ইসকনের সভাপতি বলেন, আমরা এই পত্রিকাগুলোকে আমাদের প্রতিবাদ পাঠিয়েছি। তারা সেই প্রতিবাদ ছাপেনি। এখন আমরা সেই সব তথ্য প্রমাণ নিয়ে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাবো।

ইসকনের বিরুদ্ধে লন উলফ জঙ্গি হামলা হবে। এমন আশঙ্কা জানানোর পর সরকার থেকে ইসকনের মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা আগের চাইতে বাড়ানো হয়েছে কিনা? সেই নিরাপত্তায় আপনারা সন্তুষ্ট কিনা? জবাবে ইসকন সভাপতি বলেন, সরকার থেকে ইসকনের মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তবে তারা সরকারের এই নিরাপত্তা বাড়ানোতে সন্তুষ্ট নয়।

যেসব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসকনের ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে তাদের সঙ্গে ইসকন কোনো সাক্ষাৎ করেছে কিনা? কিংবা করার ইচ্ছা রাখে কিনা? ইসকনের সভাপতি বলেন, সরকার থেকে এই উদ্যোগ নিলে ইসকন তাকে স্বাগত জানাবে। তবে ইসকন আগ বাড়িয়ে তা করবে না। ইসকন অহিংসায় বিশ্বাসী। সমাজে সকলের সঙ্গে মিলে মিশে থাকতে চায় ইসকন। কারো সঙ্গে বিবাদের যাওয়ার মত সংগঠন নয় ইসকন।

ঢাকিানিউজ২৪ডটকম