ম্যাচ ফি বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা

নিউজ ডেস্ক:   তেরোটি দাবির তিনটি আমলে নেওয়া হয়নি। আর একটি দাবির সমাধান ক্রিকেটাররাই করতে পারবেন। সেটি হলো ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) পুনর্গঠন করা। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্রিকেটাররা সেটা বাস্তবায়ন করতে চান। তবে যে নয়টি দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার কিছু এরই মধ্যে পূরণ করা হয়েছে। এক-দুটি সিদ্ধান্ত বিসিবি সভাপতির মৌখিক নির্দেশনাতেই হতে পারে। তবে আর্থিক দাবি পূরণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিসিবি। জাতীয় লিগের ম্যাচ ফি, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, আগামী সপ্তাহেই আর্থিক দিকগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।

বিসিবির পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক, মাহাবুবুল আনাম, জালাল ইউনুস, আকরাম খান ও নাঈমুর রহমান দুর্জয় জাতীয় লিগের ম্যাচ ফি ২০ ও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছিলেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। এই পরিচালক পঞ্চপান্ডবের পরামর্শ শোনেন ও মানেন বোর্ড সভাপতি। সেক্ষেত্রে এই হারে ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করা হলে প্রথম টায়ারের ক্রিকেটাররা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয় টায়ারের ম্যাচ ফি ৪৫ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

তবে ক্রিকেটাররা নূন্যতম ৭০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি চান। বুধবার রাতের বৈঠকের পরই সাকিব আল হাসানকে এই দাবি জানিয়ে দেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা। বিসিবির কাছেও এই বার্তা পৌঁছে গেছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় লিগের ম্যাচ ৭০ হাজার টাকা করা হতে পারে। বিসিবির একজন পরিচালক জানান, ম্যাচ ফি এবং বেতন চূড়ান্ত হওয়ার পরই এই মৌসুম থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। ক্রিকেটাররা যাতে খুশিমনে খেলতে পারেন।

জাতীয় লিগের ক্রিকেটাররা এখন ম্যাচ ফির পাশাপাশি বিসিবি থেকে বেতন পান। তিনটি ক্যাটাগরিতে ৭৯ জন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে চুক্তিতে রাখা হয়। লিগের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে করা হয় ক্যাটাগরি। ‘এ’ ক্যাটাগরির বেতন মাসে ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৩ হাজার আর ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১৭ হাজার ২৫০ টাকা। বিসিবি সভাপতি পাপনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ৯৬ জন ক্রিকেটার চুক্তি পাবেন। প্রতিটি বিভাগ থেকে ১২ জনকে বেতনের আওতায় আনা হবে। বেতনও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বিকল্প ভাবনাও মাথায় রেখেছেন পরিচালকরা। বেতন পদ্ধতি তুলে দিয়ে ম্যাচ ফি এক থেকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হতে পারে। নাম গোপন রাখার শর্তে একজন পরিচালক জানান, ‘শুধু ম্যাচ ফি রাখা হলে পাকা নিয়ম হবে। ১০ বছর পরে গিয়ে এই নিয়মের পরিবর্তন হবে না। শুধু টাকা বাড়তে পারে। শনি বা রোববার ক্রিকেটারদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব। তারা রাজি থাকলে ভালো একটা জিনিস হবে।’

জাতীয় লিগ ছাড়াও ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের বকেয়া আগামী সপ্তাহে পরিশোধ করা হবে বলে জানায় বিসিবি। সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আর্থিক কিছু জিনিস প্রক্রিয়াধীন আছে। লিগের টাকা পেয়ে যাবে। পিএসএলে খেলতে না দেওয়ায় প্রতিশ্রুত ৩০ লাখ টাকা পেয়ে যাবে মুস্তাফিজুর রহমান।’ ঢাকা লিগ ও বিপিএলে বকেয়া নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করার দাবি ক্রিকেটারদেরই।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষ হওয়ার ছয় মাস হয়ে গেলেও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্রিকেটারদের ৪৫ ভাগ টাকা বকেয়া রেখেছে। একাধিকবার বিসিবিতে ধরনা দিয়েও সে টাকা পাননি ক্রিকেটাররা। অথচ এক আন্দোলনে জিনিসগুলো কত দ্রুত হচ্ছে। বিসিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বাকি দাবিদাওয়াও দ্রুত সময়ের ভেতরে বাস্তবায়ন চান তারা। এই আন্দোলনে ক্রিকেটারদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও দেশি কোচ, ফিজিও, ট্রেনার এবং গ্রাউন্ডসম্যানদের আর্থিক উন্নতি বা সুযোগ-সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।