কে আসছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে

নিউজ ডেস্ক:    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদে নেতা নির্বাচনে শুক্রবার ভোটগ্রহণ হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি)। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটের আগ থেকে উত্তাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট হয়েছে সুষ্ঠুভাবেই।

সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কিছু আগেই এফডিসিতে আসেন সভাপতি প্রার্থী মৌসুমী, তার স্বামী নায়ক ওমর সানী, অপর পক্ষের সভাপতি প্রার্থী মিশা সওদাগর এবং অন্য প্রার্থীরা। প্রার্থীদের কেউ কেউ শুরুতেই ভোট দেন। এক এক করে আসতে থাকেন ভোটাররা। সকাল ১০টার পর শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী, পরিচালক সমিতির সদস্য, প্রযোজক সমিতির সদস্য, ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে এফডিসি সরব হয়ে ওঠে। নির্বাচন ঘিরে তারকাদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।

দুপুর গড়ানোর পর নতুন-পুরনো সব তারকা শিল্পী এফডিসির ভেতরে প্রবেশ করেন। কেউ খোশ গল্পে মেতে ওঠেন, কেউ স্মৃতির পাতায় ফিরে যান, কেউ আবেগে জড়িয়ে ধরেন– এমনটিই দেখা গেছে দিনভর।

নির্বাচন উপলক্ষে এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওয়াসিমকে এফডিসিতে দেখা যায় দুই বছর পর। গতবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসেছিলেন তিনি। শুক্রবারও ওয়াসিম এসেছিলেন ভোট দিতে। সিনিয়র অভিনেত্রী আনোয়ারাও এসেছিলেন ভোটকে কেন্দ্র করে। ষাটের দশকের জনপ্রিয় নায়িকা সুচন্দা ভোট দিয়ে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে বের হয়ে যান। ষাটের দশকের সাড়া জাগানো মিষ্টি মেয়ে খ্যাত নায়িকা কবরীও এসেছিলেন ভোট দিতে। অপু বিশ্বাস সকাল সকাল ভোট দিয়ে গেলেও শাকিব খান আসেন ভোট গ্রহণের একেবারে শেষ মুহূর্তে। বিকেল ৪টায় ভোট দিতে আসেন তিনি। দুপুরের দিকে ভোট দিতে আসেন অনন্ত জলিল ও বর্ষা। তাদের পরই পরই এফডিসিতে আসেন রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, পপি, বুবলীসহ অনেক তারকা শিল্পী।

এবারের নির্বাচনে মোট ৪৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়ে ৩৮৬টি। এ তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচনের আপিল বোর্ডের প্রধান শামছুল আলম।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সবার প্রতি ভালোবাসা রইলো। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শেষ করতে পেরেছি।’

ভোটকে কেন্দ্র করে এফডিসি ছিল কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা । স্থানে স্থানে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে এফডিসির গেটে ছিল কড়া নিরাপত্তা। এফডিসিতে পুলিশের এমন কড়াকড়ির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোট দিতে আসা অনেক শিল্পীই। এক সময়ের পর্দা কাপানো অভিনেতা সোহেল রানার মতো তারকাকেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

নির্বাচনে ভোট দিতে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে এক সময়ের দাপুটে অভিনেতা সোহেল রানা প্রশ্ন রাখেন, ‘এফডিসিকে তো পুলিশ ক্যাম্প মনে হচ্ছে। এটা নির্বাচন মনে হচ্ছে না। শিল্পীদের নির্বাচনে এত পুলিশ থাকবে কেন?’

বিকেলে ভোট দিয়ে শাকিব খান সরাসরি প্রযোজক সমিতির অফিসে আসেন। সেখানে বসেই শাকিব খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এফডিসি জুড়ে এতো পুলিশ কেন? গেট দিয়ে যখন আমি ঢুকছি আমার সঙ্গে কে, এটা পুলিশকে কেন কৈফিয়ত দিতে হবে? আমার সঙ্গে যেই থাকুক– নিশ্চয়ই তিনি গুরুত্বপূর্ণ কেউ!’ তিনি বলেন, ‘এফডিসি আমার ঘর, আমার বাড়ি। এখানে আমি যখন খুশি তখন আসবো। বিগত নির্বাচনে এতো সমস্যা দেখিনি। উৎসবমুখর পরিবেশ দেখেছি।’

শাকিব খান আরও বলেন, ‘সমিতিকে কেউ কেউ রাজনীতির ময়দান বানিয়ে ফেলছেন। রাজনীতির ইচ্ছে থাকলে এফডিসিতে কেন?’ তিনি বলেন, ‘এফডিসি রাজনীতির জায়গা নয়। এটা হলো সংস্কৃতি চর্চার জায়গা। এখানে নাচ, আবৃত্তি, গান, অভিনয়ের চর্চা হবে।’

এদিকে এফডিসিতে প্রবেশে দফায় দফায় বাধার মুখে পড়েছেন পারিচালকরাও। দেলোয়ার ঝন্টুর মতো খ্যাতিমান পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বর্তমান মহাসচিব বদিউল আলম খোকনকে এফডিসিতে প্রবেশের সময় প্রবেশপত্র দেখাতে বলা হয়।

ভোট কেন্দ্রের বাইরে এমন কিছু ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই মুহূর্তে চলছে ভোট গণনা।

এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচন নানা কারণেই ব্যতিক্রম। ভোট গ্রহণের আগে শিল্পীদের মধ্যে চলেছে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রার্থী সভাপতি পদে লড়ছেন। জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। সভাপতি পদে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মিশা সওদাগর। শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতিও মিশা সওদাগর। সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল, রুবেল, নানা শাহ। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ও ইলিয়াস কোবরা। সাংগঠনিক পদে প্রার্থী হয়েছেন সুব্রত। তার বিপরীতে কোনো প্রার্থী নেই। আন্তর্জাতিক পদে প্রার্থী হয়েছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ, নায়ক ইমন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়ছেন দুইজন। তারা হলেন জাকির হোসেন ও ডন। কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা ফরহাদ নির্বাচন করছেন একা।

কার্যকরী সদস্য পদ রয়েছে ১১টি। এই পদগুলোর জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- রোজিনা, অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, বাপ্পারাজ, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, রঞ্জিতা, আসিফ ইকবাল, অলেকজান্ডার বো, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব, শামীম খান ও জেসমিন। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় আছেন শিল্পীরা। ভোটের ফলের পরই দেখা যাবে আগামী দুই বছরের জন্য কারা আসছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে।