হিসাব মেলাতে পারছেন না শীর্ষ নেতৃত্ব

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে রাজনৈতিকভাবে যোগ্য ও ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের ৪০ শতাংশ থাকতে হবে কমিটিতে।

বিএনপি ও তিন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সংগঠন দুটির নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে ছাত্রদলের বিগত কমিটির ত্যাগী ও সক্রিয় মেধাবীদের স্থান দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, তিন বছরমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটির মেয়াদ চলতি মাসের শেষে এবং আগামী জানুয়ারিতে যুবদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় তারেক রহমান সংগঠন দুটির কমিটি ভেঙে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ‘ভেজা চোখে’ যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতার অনুরোধে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। সে অনুযায়ী যুবদলের কমিটি জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২০ অক্টোবর। স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার শেষ সময় বেঁধে দেন ২৫ অক্টোবর।

যুবদলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে তারেক রহমানের কাছ থেকে সময় নিয়েছেন যুবদলের নেতারা। সেই অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা না দিলে যুবদলের বর্তমান কমিটি ভেঙে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হবে। জানতে চাইলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আমাদের সময়কে বলেন, চলতি মাসেই কমিটি দেওয়া হবে। ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি হবে। সেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত, রাজনৈতিকভাবে যোগ্য মেধাবীরাই স্থান পাবেন। অবশ্যই নিষ্ক্রিয়দের যুবদলে স্থান হবে না।

২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি যুবদলের সুপারফাইভ আংশিক কমিটি করা হয়। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু গণমাধ্যমকে বলেছেন, ২০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে। জানা গেছে, যুবদলের মতো স্বেচ্ছাসেবক দলেও সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে ঝামেলা চলছে। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক-এই তিনজনের মধ্যে ‘সুসম্পর্ক’ থাকায় সেখানে ঝামেলা কিছুটা কম।

এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোটাভুটির মাধ্যমে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নির্বাচিত হন। এক মাসের অধিক সময় পার হলেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি। সংগঠনের একাধিক নেতা বলেন, খোকন ও শ্যামল উভয়ই নিজেদের লোকদের কমিটিতে স্থান দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত। এ ক্ষেত্রে তাদের পেছন থেকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন তাদের ভাইয়েরা (ছাত্রদলের সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদক)। আলোচনা ছাড়াই এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটিও তারা প্রস্তুত করেছে। এই নিয়ে সংগঠনের মধ্যে চাপ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ত্যাগী ও সক্রিয়রাই কমিটিতে স্থান পাবে।