হিন্দুত্ববাদী নেতা কমলেশকে জবাই করল জঙ্গিরা, গ্রেফতার ১০

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: ভারতে ইসলামিক জঙ্গিদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন হিন্দুত্ববাদী নেতা কমলেশ তিওয়ারি। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌতে নিজ বাড়িতে জঙ্গিরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে। কমলেশ তিওয়ারির মরদেহ ময়না তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, হত্যাকারীরা প্রথমে তাকে ঘাড়ে গুলি করে পরে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলি বিহীন পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, ১৮ অক্টোবর শুক্রবার সিসিটিভির ফুটেজে দুই জঙ্গিকে কমলেশ তিওয়ারির বাড়িতে ঢুকতে দেখা গেছে।

কমলেশ তিওয়ারি ছিলেন অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সাবেক নেতা। এছাড়া তিনি অযোধ্যা রাম মন্দির মামলার একজন আপীলকারী।

এদিকে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে নিকটস্থ থানায় মামলা করেন। মামলায় বিজনর মসজিদের দুই মৌলভীর বিরুদ্ধে হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ এ হত্যা তদন্তে এ পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে ৪ জন গুজরাটের সুরাট থেকে ও ৩ জন আহমেদাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদের কাছ থেকে হত্যা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের একটি দলের সহযোগিতায় গুজরাটের এটিএস ওই ৭জন আটক করে। এরপর তাদের দেয়া তথ্য মতে আরো ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

হত্যাকারীদের হেটে বাড়িতে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে কমলেশ তিওয়ারির বিরুদ্ধে নবী মোহাম্মদ (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ এনেছিল বিজনর মসজিদের দুই মৌলবী। এরা তিওয়ারির মাথার দাম ঘোষণা করে। পরে এদের একজন ধর্ষণ মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।

কমলেশ তিওয়ারি হত্যার দায়ভার স্বীকার করে হোয়াটঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়েছে আল-হিন্দ ব্রিগেড নামে একটি ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন।ম্যাসেজে তারা বলে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এমনভাবে আরো হত্যা হবে। যে বা যারা ইসলামের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলবে তাদেরকে শেষ করে দেয়া হবে।

গুজরাট এটিএস এর ডিআইজি হিমাংশু শুকলা জানায় কাসিম ওবায়েদ নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড তাদের পরিকল্পনামত হয়েছে বলে তারা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। কাসিম ও ওবায়েদ পুলিশকে বলে, ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর কমলেশ তিওয়ারি নবী মোহাম্মদ ও ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে তাকে হত্যা করা হয়। কাসিম ও ওবায়েদ সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেটে জঙ্গি বলে পুলিশ জানায়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম