শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিত: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোট কর্তৃক আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, আজ জন্মদিন উৎসবের নয়, বেদনাদায়ক চিত্তে শেখ রাসেলকে জানার দিন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি এ কথা বলেন ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন ১৯৬৪ সালের এই দিনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কোল আলোকিত করে ফুটফুটে শেখ রাসেলের জন্ম হয়েছিল । শেখ রাসেলের জীবনকাল এতই ছোট, এতই ক্ষণিকের ছিল যা বাঙ্গালী জাতিকে মর্মাহত করেছিল। মাত্র ১০ বছর বয়সে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের হাতে বঙ্গবন্ধুর খুব আদরের শিশু সন্তান শেখ রাসেলকে নিহত হতে হয়েছিল। বাঙ্গালী জাতি সহ সারাবিশ্ব সেই ১৫ আগস্টের জাতির পিতার স্বপরিবারের ভয়ংকর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বিস্মিত হয়েছিল ।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইতিহাসের বিবৃতি দিয়ে বলেন সেইদিন বিশ্বনেতারা জাতির পিতার সেই হত্যাকাণ্ডকে মেনে নিতে পারেন নাই এবং ধিক্কার জানিয়েছিল এই বাঙ্গালী জাতিকে, বিশ্ব নেতারা সেদিন বলেছিল, যে দেশের মানুষ, সে দেশের তাদের জাতির পিতাকে হত্যা করতে পারে, তাদের বিশ্বাস করা যায় না, তারা মানুষ না অমানুষ, সাথে সাথে বিশ্ব নেতৃত্ববৃন্ধ বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন সেদিন ।

প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসের সাথে তুলনা করে বলেন স্বপরিবারে জাতির পিতার হত্যা কান্ড ছিল পৃথিবীর সবচাইতে জঘন্যতম বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। আজ শেখ রাসেলের জন্মদিন খুব আনন্দের সাথে সমগ্র বাংলাদেশ পালন করতো, কিন্তু খুনি জিয়া বেইমান মোস্তাকরা তা চিরতরে শেষ করে দিয়েছিল ১৫ আগস্ট।

প্রতিমন্ত্রী শিশু শেখ রাসেলের ৫৫ তম জন্মদিনে ছোট্ট রাসেলেকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন শেখ রাসেল জাতির পিতাকে খুব বেশি কাছে পায় নাই কিন্তু সে জাতির পিতাকে খুবই অনুসরণ করতেন, শিশু বয়সেই মুজিব কোর্ট প্রিন্স স্যূট পড়তেন এবং জাতির পিতার মত উন্মুক্ত চলাফেরা করতে পছন্দ করতেন।

শেখ রাসেল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকলে আজ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিত বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন । এই অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে জাতির পিতাকে হারালাম, হারলাম বাঙ্গালী জাতির গৌরবের ইতিহাস।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তীব্রভাবে বিশ্বাস করেন যে, বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল খুনি জিয়াউর রহমান। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির সমস্ত অর্জন ধূলিস্যাৎ করেছিল খুনি জিয়া।

তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন বাঙালি জাতির ক্রান্তিলগ্নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশ্বনেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দিশেহারা জাতি ঘুরে দাড়িয়েছে আজ । বিশ্ব মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এই আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট নাট্যজন ম. হামিদ, ঢাক দক্ষিণ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যনির্বাহী সভাপতি ফালগুনী হামিদ।