দুর্বল ব্যাবস্থাপনায় হারাতে যাচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয় দফা, ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব জাতীয় আন্দোলনের সূতিকাগার এই বিশ্ববিদ্যালয়। ষাটের দশকের তরুণ প্রজন্মের লড়াইয়ের পরিণতি হলো মুক্তিযুদ্ধ। দেশের সব পেশার মানুষের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

মহান মুক্তিযুদ্ধ স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্য। এসব ভাস্কর্য বহন করে স্বাধীনতা যুদ্ধের নানা স্মৃতি।এসব সংগ্রামের গৌরব জানান দিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কিছু ভাস্কর্য। প্রতিটি ভাস্কর্যের পেছনে রয়েছে একেকটি সংগ্রামের গল্প। ভাস্কর্যগুলো নিছক জড়বস্তু নয়, বরং ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো মাথা উঁচু করে বলছে অধিকারের কথা, ত্যাগের কথা।

ত্যাগের বিনিময়ে এই অর্জনকে স্মরণ রেখেই টিএসটির সড়ক দ্বীপে নির্মিত হয় ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’।

এটি নির্মাণ করেন ভাস্কর শামীম শিকদার। এই ভাস্কর্যের গা-জুড়ে রয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচাররে কয়েকটি খণ্ডচিত্র। বেদির ওপর মূল ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ওপরে বামে আছে মুক্তিযোদ্ধা কৃষক আর ডানে অস্ত্র হাতে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাঝখানে অস্ত্র হাতে নারী ও পুরুষ যোদ্ধারা উড়িয়েছে বিজয় নিশান। এ ভাস্কর্য বেদির বাম পাশে আছে ছাত্র-জনতার ওপর অত্যাচারের নির্মম চেহারা। ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ এ ভাস্কর্য গড়া শেষ হয়।

অথচ, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই ঐতিহ্য হারানোর উপক্রম দেখা যাচ্ছে। অবহেলার কারনে প্রায় কয়েক সপ্তাহ যাবৎ দেখা যাচ্ছে জীর্ণ অবস্থায় রযেছে এই ভাষ্কর্যটি। এরই মধ্যে ডান দিকের বাঙ্গালী বীর যোদ্ধার হাতে থাকা অস্ত্রের পরেস্তরা খসে পড়েছে এবং ভেতরের রড বের হয়ে রয়েছে।অনেক সময় দেখা যায় ভাষ্কর্যের উপরে উঠে কেউ বসে অথবা শুয়ে আছে।

ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, এই ভাস্কর্য আমাদের দেশের বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। কিন্তু আমারাদের ঐদাসিন্যের কারণে এগুলো দিনে দিনে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে তাই আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এগুলোকে অতিসত্বর রক্ষনাবেক্ষন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত।

মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশে যেখানে মুক্তিযোদ্ধারাই অবহেলিত, সেখানে একটি ভাষ্কর্যের ক্ষতি সাধন কোনো আহামরি বিষয় না। এটা কর্তৃপক্ষের চুড়ান্ত দায়ীত্বহিনতার প্রতিফলন। যার যার কাজ সঠিকভাবে করলে আজ সমাজের এই করুন পরিণতি হত না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু’র স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমরা দুর্বার ৭১ নামে একটি টিম গঠন করেছি। সদস্য সংগ্রহের জন্য ফর্ম বিতরণ এবং প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে ভাস্কর্য সমূহ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় ধাপের কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। অতিসত্বর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করা হবে।