দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের গুরুত্ব ও মূল্যায়ন নেই

সুমন দত্ত: জরুরি বিভাগে কিংবা আইসিউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে) রোগীদের যারা চিকিৎসা দেন তারা হচ্ছেন এনেসথেসিওলজিস্ট থেকে পাস করা চিকিৎসকরা। শল্য চিকিৎসকদের (সার্জেন্ট) পিছনে থেকে তারা কাজ করেন বলে তাদের পরিচয় ও কাজের মূল্যায়ন আড়ালে চলে যায়। একজন শল্য চিকিৎসকের কাজ তখনই সফল হয় যখন ওই কাজে অ্যানেসথেসিওলজিস্টরা সফল হোন।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব অ্যানেসথেসিয়া দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সভাপতি ডা. দেবব্রত বণিক।

এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. কাওসার সরদার, যুগ্ম সম্পাদক ডা. এ কে এম ফায়জুল হক,কোষাধ্যক্ষ ডা. আবদুল হাই, দেশের বরেণ্য অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. খলিলুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ৭১ টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা: রোকেয়া সুলতানা।

১৮৪৬ সালের ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরের ম্যাসাচুসেট ইউনিভার্সিটির হাসপাতালে সঠিক ইথার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রথম সাফল্যজনকভাবে ব্যথামুক্ত শল্য চিকিৎসা সম্ভবপর হয়েছিল। যা ব্যথামুক্ত অপারেশনের পথ উন্মোচন করে। এরপর থেকেই এই দিনটিকে বিশ্ব অ্যানেসথেসিয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক। তিনি বলেন, দেশে আজ যোগ্য অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাব। এজন্য শুধু সরকার একাই দায়ী নয়। মেডিকেল পাঠ্যসূচিতে এই কোর্সটি অল্পই পড়ানো হয়। তাছাড়া অন্যান্য বিষয়ের মত এটি সংক্ষিপ্ত সময়ে পড়া যায় না। এমবিবিএস পাস করার পর পোস্ট গ্রাজুয়েট সম্পন্ন হলেই এটি পড়া যায়। যে কারণে এই লাইনে লোক কম আসে। বর্তমানে ৬ মাস ও ১ বছরের কোর্স সম্পন্ন করে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে দক্ষ অ্যানেসথেসিওলজিস্ট পাচ্ছে না দেশ।

উপস্থিত সবার মাঝে অ্যানেসথেসিয়া সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেনশন করেন ডা: এ কে এম ফায়জুল হক। তিনি দেখান কীভাবে হার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া রোগীকে রিসাসসিটেশনের মাধ্যমে বাঁচানো যায়। সিপিআর কোন অবস্থায়, কীভাবে দিতে হয়। কীভাবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

মোজাম্মেল বাবু বলেন, ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে আমার এক আত্মীয় হাঁটুর অপারেশনে মারা যায়। এরপর থেকে আমি অ্যানেসথেসিয়া সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। বর্তমানে অ্যানেসথেসিওলিজস্টিদের পেশার নাম পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের কাজের পরিধি এই নামে জানা যায় না। প্রতিবেশী দেশে আপনাদেরকে ভিন্ন নামে ডাকে। এটা ভেবে দেখবেন। তাছাড়া জনগণকে অ্যানেসথেসিওলজিস্টর গুরুত্ব বোঝাতে হবে।

ডা. কাওসার সরদার বলেন, আমরা সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেব। যাতে আগামীতে এই পেশায় চিকিৎসকদের বাড়ানো যায়। তাছাড়া বয়স্ক চিকিৎসকদের ইনসেনটিভ দিয়ে হলেও তাদেরকে পেশায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগেরও ব্যবস্থা করা হবে।

অধ্যাপক মাকসুদুর আলম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের গুরুত্ব সবার কাছে তুলে ধরবেন। একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করার আগে অবশ্য জেনে নিবেন সেখানে যোগ্য অ্যানেসথেসিওলজিস্ট আছে কিনা। কারণ শল্য চিকিৎসকরা শুধু তাদের কাজটাই ভালোভাবে করতে পারে। সেটা দেয়ার আগে ও পরে যে কাজটা করা হয় তা অ্যানেসেথসিওলজিস্টরা করে থাকে। ভুল অ্যানেথেসেয়িার কারণে রোগীর প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে। যখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে তখন একজন সার্জেন্টের পাশাপাশি অ্যানেথেসিওলজিস্টের খোজও রোগীর করা উচিত।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম