বেউথা রেস্টুরেন্ট পাড়ার সফল উদ্যোগতা প্লাবন

নেহায়েত হাসান সবুজ, মানিকগঞ্জ:  মানিকগঞ্জের স্থানীয় নদী বন্দর কালিগঙ্গার পাড় ঘিরে রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। আর এ সম্ভাবনার সিড়ি ধরেই শহরের বেউথা এলাকায় গড়ে উঠেছে ফুড স্টেশন ১৮০০, চাপ কবাব, গাঙ, ফিফ্, টেস্টি হ্যাভ ও হাঙ্গার পয়েন্ট নামের অন্তত ১২ টি রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান।

আর এ সম্ভাবনার প্রথম সফল উদ্যোগতা ছিলেন সাজিদ হাসান প্লাবন নামের ২৯ বছর বয়সী এক যুবক।

খোজ নিয়ে জানা যায়, জড়জীর্ণ কালিগঙ্গার দক্ষিন পাড়ে সাজিদ হাসান প্লাবনের উদ্যোগে গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী প্রথম নির্মিত হয় ইন্ডিয়ান খাবারের রেস্টুরেন্ট ফুড স্টেশন ১৮০০। পরিত্যাক্ত খেয়া ঘাট ও আশে-পাশের জঙ্গল পরিস্কার করে ছনের ঘর বানিয়ে মাত্র ৪ শতাংশ জায়াগায় ৪০ জনের আসন ব্যাবস্থা নিয়ে গড়ে উঠে রেস্টুরেন্টটি।

সাজিদ হাসান প্লাবনের উদ্যোগে অংশ গ্রহন করে এস.এম সফিকুল ইসলাম সুমন, রুমেদুর রউফ রুমেল ও রহমত উল্ল্যাহ রনি নামের আরো ৩ যুবক। এভাবেই পাল্টে যায় কালিঙ্গার দক্ষিন পাড় ও একের পর এক গড়ে উঠে রেস্টুরেন্ট-ফাস্টফুড আর চিত্ত বিনোদনের সাজ-সজ্জা।

সাজিদ হাসান প্লাবন ২০১৪ সনে রাজধানীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করেন ও পরবর্তী কালে বেশ কিছু সময় রবি কোম্পানীতে কাষ্টমার এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জেলা শহরে সার্কিট হাউস সংলগ্ন পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের মো: আব্দুল বারেকের পুত্র তিনি।

এ বিষয়ে সাজিদ হাসান প্লাবন জানান, প্রথম আমি যখন উদ্যোগ গ্রহন করি তখন সবাই আমাকে পাগল বলেছিলো। আমার দুচোখে এ নদীর পাড় ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র ভাষতো। তবে যতটা ভেবেছি সাড়া তার চেয়ে শত গুণ বেশি হবে তা কখনো ভাবি নি।

মাত্র ৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় ফুড স্টেশন ১৮০০। জেলা শহরের মানুষের অবসর সময় কাটানোর আর কোনো জায়গা না থাকায় কালিঙ্গার পাড় ই আলোচিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বিকৃতি পাবে একদিন, এটা আমরা আরো আগেই বুঝতে পেড়েছি।

প্লাবন আরো জানান, ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও নদীর পাড় সংরক্ষনে বাধ না থাকায় ব্যাবসায়ীরা বড় পুঁজি খাটাতে সাহস পাচ্ছে না। এছাড়াও ব্যাবসায়ীক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নেই , ময়লা ফেলার সু ব্যবস্থা সৃস্টি ও পৌর কর পরিশোধে

ব্যাবসায়ীদের প্রতি পৌর কতৃপক্ষ নমনীয় থাকলে মাত্র এক বছরে এ অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান হওয়া সম্ভব। গড়ে উঠতে পারে শত শত কোটি টাকার ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, বহমান এই নদীটি মানিকগঞ্জ শহরের বেওথা এলাকায় অবস্থিত ও শহর কে বিভক্ত করেছে নদীর এপাড় ওপারে।
নদীটি জেলার স্থানীয় নদী বন্দর হলেও চিত্ত বিনোদনের স্থান সমূহের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা ও মূল্যায়ন প্রতিবেশী পদ্মা-যমুনার চেয়ে কম নয়।

এর এক মুখ বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী বন্দর ধলেশ্বরী ও উপর মুখ ঢাকার বুড়িগঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর, সিঙ্গাইর উপজেলা হয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কালিগঙ্গা বিস্তৃত রয়েছে ।