প্রকাশক দীপন হত্যার বিচার শুরু

নিউজ ডেস্ক:    জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ আট জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রোববার আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

বিচার শুরু হওয়া অপর সাত আসামি হলো- আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাদ, খায়রুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার এবং শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের। তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক।

রোববার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো বাকি ছয় আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সুবিচার চায়। পরে বিচারক ওই ছয় আসামির মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে দীপনকে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক রণদীপম বসু ও প্রকৌশলী আবদুর রহমানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। টুটুলসহ তিনজন বেঁচে যান।

দীপনকে হত্যার পর ওই দিনই তার স্ত্রী রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়।

আসামি জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক থাকায় গত ১৯ মার্চ একই ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। এর পর গত ১৬ মে তাদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত।