নোংরা রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস দেখতে চায় ভর্তিচ্ছুরা

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি:  অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলে প্রথম দফার পরীক্ষা। দ্বিতীয় দফায় আর্কিটেকচার অংশে পাঁচ ঘণ্টার পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ।

প্রশ্নের মান নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও ক্যাম্পাসের গত বেশ কয়েকদিনের আন্দোলন নিয়ে কিছুটা আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রশ্ন গত বছরের তুলানায় এবছর প্রশ্ন একটু কঠিনই হয়েছে । তবে যারা ভাল প্রস্তুতি নিয়েছে তারা ভাল লিখতে পারবে ।

গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এর প্রেক্ষীতে পরদিন থেকে ১০ দফা দাবিতে মাঠে নামে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। এসময় দাবি না মান পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষনা দেয় তারা। প্রশাসন এই দাবি মেনে নোটিশ দিলেও আন্দোলন স্থগিত করা হয়নি। নোটিশের পর শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে প্রশাসনের অনুরোধে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে তারা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা। তবে এই দাবির সাথে পুরোপুরি একমত নন ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের চেয়ে কলুষিত ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথাই বলছেন। এবং ক্যাম্পাসে আসলে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ চায় তারা। সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে পরীক্ষা দিতে আসা শাওন বলেন, আমরা অসুস্থ রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস দেখতে চাই । এখানে এসে পড়াশোনা করতে চাই। শুধু রাজনীতি বন্ধ করলেই হবে না র্যাগিংও বন্ধ করতে হবে । আমরা যারা নতুন আসি তাদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় ভয় ।

বুয়েট ক্যাম্পাসের এই অসুস্থ রাজনীতি নিয়ে শুধু শিক্ষার্থীরা নয়। ভয়ে আছেন অভিভাবকরাও। এই রকম ক্যাম্পাসে নিজের সন্তানকে দিতে রাজী নন তারা। এই জন্য তারা এই র‌্যাগিং পদ্ধতির সংস্কার চান।

ভোলা থেকে আসা হারুনুর রশীদ নামের এক অভিভাবক বলেন , বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধে আমি খুশি কারণ বুয়েটে যেটা হচ্ছে সেটা ছাত্ররাজনীতি না । আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখনও ছাত্ররাজনীতি ছিলো। তখন আমাদের মধ্যে কিন্তু পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ,শ্রদ্ধাবোধ ছিল। এসময় আবরারে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনার সাথে আমাদের মতদ্বৈততা থাকতে পারে তাই বলে একজনকে পিটিয়ে হত্যা এটা বিপথগামিতা। আর এই বিপথগামিতা একদিনে তৈরি হয়নি । এটার পরিবর্তন আনতে হবে। এটার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও দায়ী করেন ।

চট্টগ্রাম থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ নামের এক অভিভাবক বলেন , এটা খুবই দুঃখজনক যে একটা মেধাবী ছাত্রকে আরো কয়েকজন মেধাবী ছাত্র পিটিয়ে হত্যা করেছে ।এই ঘটনার জন্য এ অভিভাবক প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন , প্রশাসন যদি শুরুতেই এসব ঘটনার বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে আজকে আবারারকে মরতো হত না। এই ছেলেগুলো খারাপ হওয়ার পিছনে ছাত্র রাজনীতির চেয়েও বুয়েট প্রশাসন বেশি দায়ী মনে করেন এই অভিভাবক।

তবে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ এই ধরণের ঘটনার সমাধান না বলে মনে করেন তিনি । তিনি বলেন , ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে তাদের মাঝে নেতৃত্ব গড়ে উঠবে কিভাবে। এই জন্য ছাত্ররাজনীতি নয় অপরাজনীতি বন্ধ কার উচিৎ । তবে আপাতত ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে পরে আবার চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি ।

তিনি বলেন , আবরার যে লেখাটা লিখেছে সেটার জন্য তাকে হত্যা না করে তার পাল্টা যুক্তি দিয়ে অন্যান্যরা আরেকটা যুক্তি দিয়ে অন্য একটি পোস্ট করতে পারত । মেধাবী হিসেবে তাদের এটাই উচিৎ ছিলো। তখন দেশের মানুষ দুটি যুক্তিই দেখতে পারত ।

প্রসঙ্গত , এবছর এক হাজার ৬০টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ১৬১ জন পরীক্ষা দিচ্ছেন। আসনপ্রতি লড়ছেন ১১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৮৮৯৬ জন ছাত্র ও ৩২৬৫ জন ছাত্রী ।