ইরানি নারীদের বিরল সুযোগ

নিউজ ডেস্ক:   ইরানের নারীরা ১৯৮১ সালের পর এই প্রথম আবার ফুটবল ম্যাচ দেখার সুযোগ পেল। অনেক বছরের দেন-দরবারের পর ও ফিফার প্রত্যক্ষ চাপের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ইরান কর্তৃপক্ষ এই নারীদের তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি দেখতে দেয়। এ রকম ঐতিহাসিক ক্ষণে ইরান দলও গোল বন্যায় ভাসিয়ে দেয় কম্বোডিয়ার জাল। ইরান খেলাটিতে ১৪-০ গোলে জয়ী হয়। দুই অর্ধে সাতটি করে দেওয়া গোলের মধ্যে চারটিই স্ট্রাইকার করিম আনসার ইফরাদের। হ্যাটট্রিক করেন সরদার আজমাউন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটাই কম্বোডিয়ার সবচেয়ে বড়ো হার।

আয়াতুল্লাহ খোমেনির ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের নারীরা আর মাঠে বসে পুরুষদের সঙ্গে ফুটবল দেখতে পারছিলেন না। এ নিয়ে বহুদিন ধরে আন্দোলন চলেছে। অতিসম্প্রতি এক নারী সমর্থক আত্মাহুতিও দেন। অতঃপর এই খেলাটি দিয়ে তাদের জন্য খুললো স্টেডিয়ামের দুয়ার। প্রায় চার হাজার নারী দর্শক তাদের জন্য নির্দিষ্ট রাখা একটি গ্যালারিতে বসে খেলাটি দেখেন। গত বছর সৌদি আরবও প্রথমবারের মতো নারীদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে দিয়েছিলেন।

ফিফার একটি দল পুরো ব্যাপারটি দেখভালের জন্য মাঠে হাজির ছিলেন। এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি ইরানের খেলাটি দেখতে নারীদের উপস্থিতি, পতাকা শোভিত হয়ে তাদের গ্যালারিকে মুখর করে তোলায় মাতোয়ারা পরিবেশ ছিল ৮০ হাজার দর্শকাসনের আজাদি স্টেডিয়াম।

পুরুষ দর্শকদের থেকে ২০০ মিটার দূরে ছিল নারী গ্যালারির অবস্থান। তার মধ্যে ১৫০ জন নারীরক্ষী কালো চাদরে আবৃত হয়ে তাদের পাহারা দেন। ২৯ বছর বয়স্কা নার্স জাহরা পাশায়েই বলেন, ‘অবশেষে স্টেডিয়ামে আসার সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি।’ মোজগান নামের আরেক সমর্থক বলেন,‘আমি আশা করি এ সুযোগের পুনরাবৃত্তি হবে। কারণ আনন্দ ও নিজেদের দলকে সমর্থন দিতে নারীদের স্টেডিয়ামে আসা উচিত’।

অবশ্য ২০০৬ সালেই সে সময়ের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদদিনেজাদ নারীদের ম্যাচ দেখতে আসার আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এ ধারণার বিপক্ষে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, দেশটিতে যার কথাই চূড়ান্ত। তবে গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল দেখতে তেহরানে অল্প কিছু নারীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

ফিফা অবশ্য অতিসম্প্রতি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল নারীদের ফুটবল দেখতে স্টেডিয়ামে আসতে না দিলে ফুটবলের বিশ্ব সংস্থার আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো থেকে ইরানকে নিষিদ্ধ করা হবে। শেষ পর্যন্ত নারীদের অনুমতি মেলায় খুশি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘এখন আর পেছনে ফেরা যাবে না। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে উন্নতি আসে পর্যায়ক্রমে এবং এটা হলো একটা যাত্রার শুরু মাত্র।’