বুড়িগঙ্গা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, লাখো মানুষের ঢল

নিউজ ডেস্ক:  : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামীরীগের ১ম যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ সাইদুল মাদবর এর উদ্যাগে বুড়িগঙ্গা নদীতে আয়োজন করা হয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার কেরানীগঞ্জ খোলামোরা খেয়াঘাট থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ ২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষ হয় কামরাঙ্গীরচর মুসলিমবাগ ঠোটা খেয়াঘাট বাধে এসে।

১২টি নৌকা নিয়েবিভিন্ন ধরনের বাদ্য বাজনা দিয়ে, গান গেয়ে গেয়ে প্রতিযোগীরা পাড়ি দেয় ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদী। এ সময় নদীর মাঝে ও নদীর পাড়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীদের। সরেজমিনে এসে উৎসক জনতা বলেন- নৌকা বাইচ একটা আনন্দ, সেই আনন্দ আমরা সবাই একসাথে কাধে কাধ মিলিয়ে উপভোগ করেছি। এখানে নিরাপত্তার ব্যাবস্থা ভালো।

সবাই আনন্দ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করেছি। তাছারা নৌকা বাইচের অংশগ্রহনকারীরা বলেন-আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে এসেছি নৌকা বাইচের প্রতিযোগীতা করার জন্য। এত সুন্দর আয়োজন, প্রত্যেক বছর হওয়া উচিৎ।

বুড়িগঙ্গার মুল শাখাতে নৌকা বাইচে অংশগ্রহন করতে পেরে খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিযোগীরা। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানের সহযোগী সংগঠন “নোঙর” এর সভাপতি জনাব সুমন শামস বলেন- নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা সফল করতে ও গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আমরা প্রতিযোগীতার সময় নদীর দুই তীরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করেছি। সেই সাথে জনগনকে পর্যাপ্ত সেবা ও বিনোদন দেওয়ার জন্য আমাদের টিম নিরলস ভাবে কাজ করেছেন।

তাছাড়া নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার প্রধান আয়োজক- ডিএসসিসির ৫৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মোঃ সাইদুল মাদবর বলেন- এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে জনগন একটি ঐতিহ্যবাহী বিনোদন পাবে, দেশ ও নদীকে ভালবাসতে শিখবে, এই প্রত্যয় নিয়ে আমরা মূলত নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা করেছি এবং আশা করছি আমরা প্রতি বছর এই নৌকা বাইচের আয়োজন করব।

এই নৌকা বাইচের নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় আমাদের সাথে সহযোগী হিসেবে ছিল- কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা পুলিশ। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক

খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. মোঃ কামরুল ইসলাম, এমপি (ঢাকা-২)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহে আলম মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। জনাব মুনতাসিরুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, লালবাগ বিভাগ। নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর সভাপতি জনাব সুমন শামস। উক্ত প্রতিযোগিতায় ১২টি দল অংশগ্রহণ করে এর মধ্যে ছিলেন, মধু মাঝী- সবুজ মাঝী, হাতনীর রাজ, সোনার বাংলা, একতা এক্সপ্রেস, তরী, সোনার তরী, বাংলার ঐতিহ্য, মাসুদ রানা, জয় বাংলা এবং ফরিঙ্গা এক্সপ্রেস নৌকা চাইচের দল।

প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিজয়ীদলের হাতে পুস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. মোঃ কামরুল ইসলাম, এমপি (ঢাকা-২) এবং উৎসবের আয়োজক হাজী মোহাম্মদ সাইদুল মাদবর, কাউন্সিলর, ৫৭ নং ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানের অধিকারী শেখ আঃ খালেক মধু মাঝী- সবুজ মাঝীর দল একটি ১৫০ সিসির মটর সাইকেল, দ্বিতীয় বিজয়ী শেখ মাইজউদ্দিনের দল হাতনীর রাজা একটি ১২৫ সিসি এবং তৃতীয় বিজয়ী শেখ মাইজউদ্দিনের দল সোনার বাংলা পেয়েছে একটি ১০০ সিসি মটর সাইকেল। এর পরে একতা এক্সপ্রেস দল পেয়েছে একটি ফ্রিজ। এ ছাড়া বাইচে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে দেয়া হয় এল ই ডি টিভি। আয়োজিত এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।