সমুদ্র হত্যাকাণ্ডের খলনায়িকা র‍্যাবের খাঁচায়

এস আর অনি চৌধুরী :: কম খরচে সাগর পথে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নানা দেশ থেকে জড়ো করা হয়েছে তাদেরকে। সাকুল্যে ৭৭ জনের মধ্যে বাংলাদেশিই পঞ্চাশের অধিক। লিবিয়ার উপকূল থেকে ১৫/২০ জন ধারণক্ষমতার ছোট নৌকায় সবাইকে ঠেসেঠেসে তোলার পর ইঞ্জিন চালু করার মাধ্যমে শুরু হয় পৃথিবীর ভয়ংকরতম সুমুদ্রযাত্রা। গন্তব্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির সিসিলি উপকূল। সম্বল বলতে জীবন ধারনের জন্য অল্পকিছু শুকনো খাবার আর পানি। একপর্যায়ে বিপুল যাত্রীর ভারে ভারাক্রান্ত নৌকাটি সাগরের প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে হঠাৎ করেই ডুবে যায়।

তারপর থেকেই অভিযাত্রীদলের শুরু হয় অন্যরকম এক জীবনসংগ্রাম। ঘন্টার পর ঘন্টা গভীর সমুদ্রে সাঁতরে ভেসে থাকার লড়াইয়ে বিজয়ী ১৬ জনকে তিউনিসীয় জেলেরা উদ্ধার করেন, যার মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশি। আর বাকিরা? গভীর সমুদ্রে মাছের পেটেই সমাধিস্ত। এভাবেই কিছু লোকের অর্থলিপ্সার বলি হয়ে সলিলসমাধি হয় স্বপ্নাতুর মানুষগুলোর।

এটা একটি মাত্র ঘটনার বর্ণনা। এ গল্পের নির্মম পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে বারবার-শতবার। অল্পকিছু লোকের পকেট ভারি করার উপলক্ষ তৈরি করতে গিয়ে এভাবেই নিঃসীম সাগরে বলি হচ্ছেন হাজারো মানুষ। চলতি বছরের মে মাসে ঘটা হৃদয়বিদারক এই ট্রাজিডির প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো এর হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিষয়টি টেলিভিশন – পত্রপত্রিকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে নড়েচড়ে বসেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ঘৃণ্য এ অপরাধের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দীর্ঘ গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের পর অবশেষে রবিবার সন্ধায় এ চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা পিংকি অনন্যা প্রিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় র‍্যাব। আটক পিংকি (৩০) ১৬মে, ২০১৯ এ সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় এবং ১৯সেপ্টেম্বর, ২০১৯ এ হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় মানবপাচার আইনে দায়েরকৃত মামলার এজাহারভূক্ত আসামি। তার বাবা ও প্রবাসী ভাইয়ের বিরুদ্ধেও মানব পাচারের মামলা রয়েছে। বাবা, মেয়ে, ছেলে মিলে এভাবে অনেক অসহায় মানুষকে ইতালি নেওয়ার নাম করে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছেন মর্মে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

রবিবার (২৯সেপ্টেম্বর) র‍্যাব ৯ এর অপারেশনস অফিসার এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম ও এএসপি নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি চৌকস দল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দক্ষিণ কাটালিপাড়া গ্রাম থেকে সুসমন্বিত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

এ প্রসঙ্গে র‍্যাব-৯ এর অপারেশনস অফিসার এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার আটকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধূলো দিয়ে আত্মগোপন করে সে। অবশেষে আজ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এ র‍্যাব কর্মকর্তা। মানবপাচারকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে র‍্যাবের এ তৎপরতা অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আটক পিংকি (৩০) কে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিআইডি, ঢাকার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্র নিশ্চিত করে।