মান্দায় এবছর ১১৩টি মন্ডপে হবে দুর্গাপূজা: চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি

সুলতান আহমেদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। দিন যতই এগিয়ে আসছে নওগাঁর মান্দায় শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠছে দূর্গাদেবী সহ সকল দেবদেবীর রুপ। এখন শেষ পর্যায়ে চলছে রং তুলির খেলা। মৃৎ শিল্পীদের রং তুলির আঁচড়ে ফুটে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমূর্তী। পূজার আগ মুহূর্তে পোশাক পরিধান করানো সম্পন্ন হবে। আবার কোথাও কোথাও পোশাক পরিধান করানোও আংশিক সম্পন্ন হয়েছে, চলছে প্যান্ডেল, তোরণ তৈরি আর সাজ-সজ্জার কাজ। উৎসবের রঙে সাজানো হচ্ছে মন্ডপগুলো। মহাষষ্ঠী থেকেই পূজা মন্ডপগুলো ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দে মুখরিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে আগমন ঘটেছিলো মর্ত্যলোকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতি বছর দুষ্টের বিনাশ কল্পে দেবী দূর্গা এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, সমাজ থেকে সকল অন্যায়, অবিচার, জরাজীর্ণ ও অজ্ঞানতার অন্ধকার দূরীভূত করার জন্যই এই পূজার আয়োজন।

এদিকে উপজেলার সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে বরণ করতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের এখন শুধু অপেক্ষার পালা। এরই সুবাদে ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ উৎসব ও পূজার প্রস্তুতি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৪ অক্টোবর শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং ৮ অক্টোবর দশমী পূজা শেষে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। ইতি মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গা মন্দির ঘুরে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি মুলক কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যেই পুজা মন্ডপগুলোতে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর স্বপন কুমার জানান, এ বছর ৭ টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে প্রতিটি প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং তুলির কাজ । তিনি আরো জানান, তিন ধরণের কাঠামো অর্থাৎ এক কাঠামো, তিন কাঠামো এবং পাঁচ কাঠামোতে দূর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে তিন কাঠামোর প্রতিমার দাম বেশি। এক কাঠামোর দাম ১০-১৫ হাজার, তিন কাঠামোর দাম ৩০-৫০ হাজার এবং পাঁচ কাঠামোর দাম ১৫-২০ হাজার টাকা। তারপরও ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা তৈরীর খরচ কম-বেশী হয়ে থাকে।

মান্দা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবিন কুমার দাস জানান, গত বছর ১১৭টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপন হলেও এবছর উপজেলায় ১১৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে সকলের সহযোগিতায় সম্প্রীতির মধ্যে দিয়ে প্রতি বছর দূর্গোৎসব পালিত হয়ে থাকে। আশা করা হচ্ছে প্রতি বছরের মতো এ বছরও শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল হালিম জানান, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১১৩টি মন্ডপে পূজা উদ্যাপন হবে। মন্দিরে যাতে করে কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য বিশেষ মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে শারদীয় দূর্গাপূজা উদ্পাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হবে। ৫২টি পূজা মন্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করে বিশেষ তদারকীর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপুজা উদ্যাপনের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।