পাঁচ তরুণের হাঁসের খামার

নিউজ ডেস্ক :  গ্রামের পাঁচ তরুণ। সবাই কৃষিজীবী পরিবারের সন্তান। কলেজে পড়াশোনা করেন। তাঁদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় অভিভাবকদের। কিন্তু তাঁরা পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চান না। নিজেদের খরচের জোগান নিজেরাই করতে চান। বেকারত্বহীন ভবিষ্যৎ গড়তে চান। এ জন্য তাঁরা হাঁসের খামার করেছেন। স্বপ্ন দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার।

এই তরুণদের বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের সরাবাড়িয়া গ্রামে। বাড়িতে থেকেই তাঁরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তাই বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাঁরা খামার করেছেন।

তরুণেরা হলেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র সুমন আলী, সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রুহুল আমিন, আটঘরিয়া ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জনি হোসেন এবং জেলা সদরের শামসুল হুদা ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শামিম হোসেন ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সজীব হোসেন।

পাঁচ তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের গ্রামটি কৃষিপ্রধান। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের পরিবারগুলোও কৃষিজীবী। অনেক সময়ই তাঁদের পড়াশোনার বাড়তি খরচ জোগাতে অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরি পাবেন, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে তাঁরা নিজেরা কিছু একটা করার কথা ভাবেন। একটি হাঁসের খামার করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী, নিজেদের হাতখরচ থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে থাকেন। একপর্যায়ে নিজেরা প্রায় ৪০ হাজার টাকা জমিয়ে ফেলেন। পরে সবার পরিবারের কাছ থেকে আরও ৩০ হাজার টাকা নেন। মাস তিনেক আগে এই টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ৪০০টি হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। বাকি টাকা রেখে দেন হাঁসের খাবারের জন্য। সেই টাকা দিয়ে হাঁসের খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচর্যা করছেন।

গত শনিবার বিকেলে দেখা গেছে, জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান। সবুজ ছায়াঘেরা গ্রামের মাঠগুলোয় সবজির আবাদ করা হয়েছে। মাঠ থেকে গ্রামে ওঠার রাস্তার পাশে পুকুর ঘিরে গড়ে উঠেছে এই হাঁসের খামার। বিকেলে পাঁচ তরুণের মধ্যে চারজন হাঁসের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটান।

সুমন আলী বলেন, তাঁদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালন করে বাড়তি আয় করেন। ছোটবেলা থেকে তাঁরা কাজটি দেখছেন। ফলে হাঁস পালনে তাঁদের অভিজ্ঞতা আছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই খামার শুরু করেছেন। তিন মাসে হাঁসগুলো বেশ বড় হয়ে উঠেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করবে।

সজীব হোসেন বলেন, তিন বেলা খাবার দেওয়া এবং সন্ধ্যায় পুকুর থেকে হাঁসগুলো নিয়ে ঘরে তোলা ছাড়া খামারে তাঁদের তেমন কোনো কাজ করতে হয় না। পড়ালেখার পাশাপাশি এই সময়টুকু খুব সহজেই তাঁদের সবাই দিতে পারেন।

শামিম হোসেন বলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে চাকরি পাব, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ঠিকভাবে হাঁস ডিম দিলে ভবিষ্যৎ আছে। তাই ঠিকঠাকমতো খামারটা গড়তে পারলেই আমরা খুশি।’

এ প্রসঙ্গে সুমনের বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাওয়ালরা কলেজে পড়ে। প্রথম দিক মনে করছিলেম, উরা খামার করতি পারবিনানে। তয় উরা পারতেছে। হাঁসগুলো বড় হয়া গেছে।’

গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, গ্রামের ছেলেদের এই উদ্যোগ সত্যিই আনন্দদায়ক। পড়ালেখার ফাঁকে তাঁরা সময় নষ্ট না করে খুব ভালো একটা কাজ করছেন। তাঁরা সফল হলে ভালো লাগবে।