গৌরীপুরে মৃৎ শিল্পীদের ব্যস্ত সময় পার

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা:  হিন্দু ধর্মীয় সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গৌরীপুরে মৃৎশিল্পীরা। উপজেলায় ৫৬টি স্থায়ী-অস্থায়ী পূজা মন্ডপে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন মন্ডপে গিয়ে দেখা যায় শিল্পীরা তাদের মনের মাধুরি মিশিয়ে নির্মাণ করে যাচ্ছে প্রতিমা।

মহালয়ার দিন থেকেই দেবীর আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও মূল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে। এ অনুষ্ঠান চলবে ৫ দিন ব্যাপি। অর্থাৎ ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র কর জানিয়েছেন, এ বছর গৌরীপুর পৌর শহরে ১৫টি পূঁজাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সর্বমোট ৫৬টি পূঁজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তার মাঝে পৌর এলাকার মাস্টার পাড়া, বাগানবাড়ী, কালিখলা, ষ্টেশনরোড, মধ্যবাজার, মধ্যবাজার পালমন্দির, হরিজন পল্লী, বালুয়াঘাট ঋষিবাড়ী, দুর্গাবাড়ি, চকপাড়া, চকপাড়া কালীবাড়ি, পাছেরকান্দা বর্মনপাড়া, পূর্ব দাপুনিয়া, সরকারপাড়া, পুরাতন রাইছমিল মন্দির সহ ১৫টি ও উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ বাজারে ৭টি, গৌরীপুর ইউনিয়নে ২টি, অচিন্তপুর ইউনিয়নে ৪টি, মাওহা ইউনিয়নে ৪টি, সহনাটি ইউনিয়নে ২টি, বোকাইনগর ইউনিয়নে ৪টি, রামগোপালপুর ইউনিয়নে ৪টি, ডৌহাখলা ইউনিয়নে ১১টি, ভাংনামারী ইউনিয়নে ১টি ও সিধলা ইউনিয়নে ২টি সার্বজনিন বারোয়ারী দুর্গাপূঁজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে খড়ের কাজের পর মূল কাঠামোর উপর দুর্গা মহিষাসুরের পাশাপাশি কার্তিক গণেশ ও লক্ষী স্বরস্বতীর প্রতিমায় চলছে চলছে মাটির কাজ। মাটির কাজের মাধ্যমে ফুঁটিয়ে তোলা হচ্ছে মূর্তির অবয়ব।

একজন শিল্পী কয়েকটি মন্ডপে মূর্তি তৈরির অর্ডার নেওয়ার কারণে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। সাথে রয়েছে মূর্তি সুন্দর করার অঘোষিত প্রতিযোগিতা। মূর্তি তৈরির পাশাপাশি চলছে ডেকোরেশনের কাজ। কালীখলা বাজার কালী মন্দিরের মৃৎ শিল্পী সুকেশ পাল বলেন (৫০), পিতার কাছ থেকে এ পেশার শিক্ষা গ্রহণ। পারিবারিক ঐতিহ্য আর ভালালাগায় ৩৫ বছর যাবত এ পেশায় আছেন। এ বছর আটটি মন্দিরের মূর্তি তৈরীর অর্ডার নিয়েছেন। সারা বছরই তিনি মূর্তি তৈরীর কাজ করে থাকেন। এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন তিনি।

কালীখলা বাজার কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদ শংকর ঘোষ পিলু বলেন, পূজার সকল উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারনে প্রতি বছরই বাড়ছে পূজা উদযাপনের ব্যয়। প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় সব কিছু ভাল ভাবেই চলছে। প্রশাসনের নিয়োজিত কর্মকর্তা প্রতিমা তৈরীর সময় নিরাপত্তার বিষয়টি প্রতিদিনই মনিটরিং করছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম জানান, দুর্গাপূঁজায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রতিমা তৈরীর সময় পূঁজা মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রতিটি মন্ডপ বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজাঁ চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তার জন্য উপজেলায় একটি আইন শৃংখলার বিশেষ সভারও আয়োজন করা হয়েছে।