মমতার সঙ্গে বৈঠকে নীরব অমিত শাহ

নিউজ ডেস্ক:    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ সময় মমতা বলেন, ‘বাংলা ভালো থাকলে গোটা দেশ ভালো থাকবে।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরে মমতার সঙ্গে প্রথম এই বৈঠক নিয়ে ছিল নানা জল্পনা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল এনআরসি। বৈঠক শেষে মমতা ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অমিত শাহ শুনেছেন বেশি, বলেছেন কম। তবে রাজ্যের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

সম্প্রতি আসামে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় এনআরসি চাইছেন বিজেপি নেতারা। বুধবার অমিত শাহ ঝাড়খণ্ডে জানিয়েছেন, গোটা দেশে এনআরসি চায় সরকার। এই আবহে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এনআরসি প্রশ্নে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলার ভূ-কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মমতা।

একটি সূত্রের খবর— মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। তাই নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। আসামের ঘটনায় বাংলায় এনআরসি নিয়ে অসন্তোষ, আশঙ্কা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

রেশন কার্ড করার জন্য লাইন পড়ার উদাহরণ দিয়ে মমতা বলেন, ‘মানুষ ভাবছেন, রেশন কার্ডে নাম না থাকলে এনআরসি থেকে বাদ পড়বেন। তাই লম্বা লাইন পড়ছে।’

স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এনআরসির কারণে নিজেদের বহিরাগত ভাবতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন, এতে রাজ্যের মানুষের জাত্যভিমান আহত হতে পারে। আর তাতে দেশের নিরাপত্তাই দুর্বল হবে।

বৃহস্পতিবার আসামের এনআরসি পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অমিত শাহকে একটি চিঠি দেন মমতা। এ বিষয়ে মমতা বলেন, আসামে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের মধ্যে বাংলা ও হিন্দিভাষী ছাড়াও গোর্খা ও অসমিয়া সমাজের লোকও রয়েছেন। যারা ভারতীয়, তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য. ১ অক্টোবর কলকাতায় দলীয় কর্মীদের কাছে এনআরসি নিয়ে ব্যাখ্যা দেবেন অমিত শাহ। ফলে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তিনি পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি’র কোনো ইঙ্গিত দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এনআরসি চায় না। বিহারের নীতীশও বিরুদ্ধে। আমার আশা, আসামের এনআরসি নিয়েও ইতিবাচক ভূমিকা নেবেন অমিত শাহ।