ব্রহ্মপূত্র খননের মাটি দিয়ে নদী রক্ষাবাঁধ, ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবী

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : ব্রহ্মপূত্র নদের খননকৃত অফুরন্ত মাটি দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর-ময়মনসিংহ-টোক-ভৈরব বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সুপ্রশস্ত প্রস্থ্যের নদের পূর্বতীরে ব্রহ্মপূত্র রক্ষাবাঁধ ও বাঁধের উপর কমপক্ষে দুইশত ফুট প্রশস্ত করে জাতীয় মহাসড়ক, ওয়াকওয়ে নির্মাণের মেঘাপ্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নদের পাশে বিস্তীর্ণ অনাবাদি চর এলাকায় শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্প বিপ্লব ঘটানোর সূবর্ণ সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌছানোর জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেয়া হয় স্মারকলিপিটি। জনগুরুত্বপূর্ণ দাবী সম্বলিত এই স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন বলে বিভাগীয় কমিশনার আশ্বাস প্রদান করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সিঁড়ি এবং দেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যুগান্তকারী এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবীতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এফ.এম. এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম। স্মারকলিপির অনুলিপি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ সদরের সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক এসডিজি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, নৌ পরিবহন সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর প্রধানকে প্রেরণ করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি, দৈনিক আজকের ময়মনসিংহ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাব এর রিজিওনাল চীফ আলহাজ্জ্ব শামসুল আলম খান, ময়মনসিংহ সিটি প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও মানব জমিন স্টাফ রিপোর্টার মতিউল আলম, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ত্রিশাল উপজেলা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান সবুজ, বিভাগীয় প্রেসক্লাব দপ্তর সম্পাদক ও বিটিভি চিত্র সাংবাদিক ইব্রাহিম মুকুট ও দৈনিক জাহান শহর প্রতিনিধি রাশিদ আহমেদ।

স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রায় দুই কোটি মানুষের প্রাণের দাবী ময়মনসিংহ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির লাইফলাইন ব্রহ্মপূত্র নদ খননের মতো এক বিশাল প্রকল্প গ্রহন করায় জাতির জনক বিশ্ববন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা মাদার অব হিউম্যানিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের ৩৫টি উপজেলার পাঁচ শতাধিক সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রহ্মপূত্র খননের মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপূত্র খননের পর সারাবছরব্যাপী কমপক্ষে পাঁচ হাজার টনের পণ্যবাজী কার্গো জাহাজ চলাচল উপযোগী করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হযেছে। খননকাজ সম্পন্ন হলে ভারতসহ ভুটান ও নেপাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নৌ-প্রটোকল রুট চালুর পরিকল্পণা রয়েছে। ইতিমধ্যেই নদের খননকৃত মাটি ফেলানোর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ব্রহ্মপূত্র নদের খননকৃত অফুরন্ত মাটি দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর-ময়মনসিংহ-টোক-ভৈরব বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার ব্রহ্মপূত্র নদের পূর্বতীরে নদী রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করা হোক এবং কমপক্ষে তিনশত বছরের পরিকল্পণা মাথায় রেখে ওই বাঁধের উপর কমপক্ষে দুইশত ফুট প্রশস্ত করে একটি জাতীয় মহাসড়ক এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার লক্ষ্যে ওয়াকওয়ে নির্মাণের স্বপ্নের মেঘাপ্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়োপযোগী দাবী বলে উল্লেখ করা হয়। এককালে ব্রহ্মপূত্র নদটির প্রশস্ত ছিলো ০১ থেকে প্রায় ০৭ কিলোমিটার পর্যন্ত । যা বর্তমানের ক্ষীণপ্রায়। নদের বিস্তীর্ণ জমি এখনও বেদখল হয়ে আছে। সরকারের কোনো জমি অধিগ্রহন ছাড়াই এবং কোনো ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি ছাড়াই সুপ্রশস্ত ব্রহ্মপূত্র নদের পাশ দিয়ে সেই সরকারী জমির উপর কমপক্ষে দুইশত ফুট প্রশস্ত করে জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ করার দাবী জানানো হয়। সেইসাথে নদের পাশে বহু অনাবাদি জমি রয়েছে সেই বিস্তীর্ণ চর এলাকায় শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করে শিল্প বিপ্লব ঘটানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এতে প্রায় দুই কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাকরি হতে পারে। যা দেশের চেহারা পাল্টে যেতে পারে। এই সড়কটি রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তরের জনপদ ময়মনসিংহ বিভাগ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সাথে একটি বাইপাস সড়ক হতে পারে, এই সড়কে দ্রুত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজতর হতে পারে। সড়কটি রাজধানী ঢাকা, আশুগঞ্জ নদী ও স্থলবন্দর, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেরসাথে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হতে পারে।

ব্রহ্মপূত্র নদের দুপাড়েই এখন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নগরী বিদ্যমান। ব্রহ্মপূত্র নদের পশ্চিম তীরে পুরাতন ময়মনসিংহ শহরের পাশে আধা ভাঙ্গা ময়মনসিংহ শহর রক্ষাবাঁধটি বিদ্যমান থাকলেও ব্রহ্মপূত্র নদের পূর্ব তীরে নতুন নগরীতে শহর রক্ষা বাঁধ নেই। তাছাড়া ব্রহ্মপূত্র নদের পূর্ব তীরে জমি অধিগ্রহন করে নতুন বিভাগীয় দপ্তরের জন্য অফিসগুলোর অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে নৌপথ ও সড়ক পথের সহজ যোগাযোগের নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবিত এই দাবীগুলো বৃহত্তর এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের প্রতি লক্ষ্য রেখে জনগুরুত্বপূর্ণ দাবীটুকু মেনে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব সভাপতি এফ.এম. এ সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম।

গত ৭ সেপ্টেম্বর- ২০১৯ইং তারিখ এমসিসি’র শাহাবুদ্দিন হলরুমে ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেছেন এ অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে উত্তরাঞ্চলকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে মৃতপ্রায় পুরাতন ব্রহ্মপূত্র খননের মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন ব্রহ্মপূত্র নদের খননকৃত মাটি দিয়ে নদের পূর্বতীর দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর-ময়মনসিংহ-টোক হয়ে ভৈরব বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বেরীবাঁধ নির্মাণ করে বাঁধের উপর সুপ্রশস্ত সড়ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য সড়ক পরিবহন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। এটি নির্মিত হলে নৌপথের পাশাপাশি সড়ক পথেও যাত্রী ও মালামাল পরিবহন আরো সহজতর হবে।

একই সভায় উপস্থিত নৌ পরিবহন সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প সম্পন্ন করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, ব্রহ্মপূত্রে খননকৃত মাটি দিয়ে নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের উপর প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করার উদ্দ্যোগ নেয়া হবে একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের প্রতি লক্ষে রেখে এই বাধঁকাম মহাসড়কটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন নৌপরিবহন সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ।