বাঙলা কলেজের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ

নিউজ ডেস্ক:   সম্প্রতি বাঙলা কলেজের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য শিক্ষকমন্ডলীর সাথে আমি এবং আনিস আবদুল্লাহ বাংলা কলেজ কর্তৃপক্ষের আহবানে একটি মতবিনিময় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলাম।উক্ত বৈঠকে কলেজের পক্ষ থেকে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুন কবির, সাবিহা সুলতানা ও জাকিয়া ফেরদৌস।

মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস জুড়ে পাকিস্তানি সেনা, বিহারি ও এদেশীয় দালাল, রাজাকার ও আলবদররা বাঙলা কলেজে নির্মম হত্যাকান্ড চালিয়েছিল।ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে যুবক ও নারী-পুরুষ ধরে এনে কলেজ প্রাঙ্গণে পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো।দেশ স্বাধীনের পর টিচার্স কমন রুমের দক্ষিণে ২টি কুয়া, অধ্যাপকের বাসভবনের গেটের সামনে ১টি কুয়া শহীদদের কঙ্কালে পরিপূর্ণ ছিল।অধ্যক্ষের বাসভবনের পেছনে আম বাগানে এবং ছাত্রাবাসের পশ্চিমে নিচু ভূমিতে অগণিত মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল।১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি দৈনিক বাংলায় লেখা হয় “বাঙলা কলেজের পেছনেও বহু নরকঙ্কাল, টুকরো হাড়, চাপ চাপ জমাট রক্ত এবং শাড়ী, ব্লাউজ, বোরখা, চুড়ি প্রভৃতি পাওয়া গেছে।”

কলেজের বারান্দায় এবং ক্লাসরুমে মেয়েদের গণধর্ষণের পর হত্যা করা হতো।কলেজের আয়া আনোয়ারা বেগম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ ১টি ক্লাসরুমে ১০/১২ জন দু’টি মেয়েকে গণধর্ষণ করে।মেয়ে দু’টির চিৎকারে আমার বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিল।ধর্ষণকারীরা চলে যাবার পর আমি জীবনের মায়া ত্যাগ করে মেয়ে দু’টিকে ছেড়ে দেই।

কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলাপ করে দেখা যায়, তারা এই হত্যাকান্ডের কথা জানেনা।তাই ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য কলেজের অধ্যক্ষ স্মৃতিস্তম্ভ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন।