দিনে-দুপুরে ঢাবিতে ভূত তাড়ানোর মিছিল!!

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি: গল্প নয় সত্যি। এই ভূত হলো “জালিয়াতির ভূত”। নিয়মবর্হিভূত উপায়ে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই তথাকথিত ‘চিরকুটে’র মাধ্যমে ছাত্রলীগের ৩৪নেতাকে ভর্তির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের দুর্নীতির ভূত তাড়াতে এবং পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ব্যানারে ভূত তাড়ানোর বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সাধারন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র চত্তর থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্গাত্নক মন্তব্য লেখা প্লাকার্ড এবং কয়েকজন ভূত তাড়ানোর ওঝাসহ এই নান্দনিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সমগ্র ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

মিছিলে ভূত তাড়াবো, ভূত তাড়াবো, ঢাবি ভিসির ভূত তাড়াবো, ডিনের ভূত তাড়াবো, জিনাত হুদার ভূত তাড়াবো ইত্যাদি ব্যাঙ্গাত্নক স্লোগান দেয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল না’, ‘আমাকে একটি চিরকুট দাও আমি তোমাদের একটি নেতা উপহার দেবো’, ‘জালিয়াতের ঠিকানা ঢাবি হবেনা’ ইত্যাদি লেখা প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও বানিজ্য অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের কার্টুন চিত্রের ওপরে ধূপ-ধূনোর ধোয়া এবং ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে দুজন ওঝা প্রতিকী ভূত তাড়ায়।

বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডাকসু কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে সমাপ্তি ঘোষণা করে। সমাবেশে তিনটি দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এগুলো হলো- যারা অবৈধভাবে ভর্তি হয়েছেন তাদের ছাত্রত্ব ও ডাকসুর পদ বাতিল করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে খালি পদগুলোতে দ্রুত উপনির্বাচন দেওয়া। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগ। আগামী বুধবার বানিজ্য অনুষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে তারা।

সমাবেশে, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সেক্রেটারি রাগিব নাইম বলেন, আপনারা জানেন ঢাবি ভিসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জালিয়াতদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি চিঠির মাধ্যমে একটি বিশেষ দলের কর্মীদের ভর্তি করে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়। আজকের সমাবেশ থেকে ঢাকায় প্রশাসনকে যানজট বলে ঘোষণা এবং তাদের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।

সমাবেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের সংগঠক চয়ন বড়ুয়া বলেন, ৩৪ জনকে ঢাবি ভিসি চিরকুটের মাধ্যমে ভর্তি করেছেন। এদের মধ্যে অনেকে ডাকসুতে রয়েছেন। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি ডাকসু নির্বাচনের নীলনকশা অনেক পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং বিজনেস অনুষদের ডিনসহ রোকেয়া হলের দুর্নীতির জন্য জিন্নাত হুদাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক হাসান আল মামুন বলেন,দুর্নীতি এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ এখানে জোড়ো হয়েছি। জালিয়াতির যে ভূত প্রশাসনের উপর ভর করেছে সে ভূত তাড়ানোর জন্য আজকে আমরা এ বিক্ষোভ মিছিল করেছি। এর মাধ্যমে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং বাণিজ্য অনুষদের ডিন সহ রকেয়া হলের প্রভোস্ট জিন্নাত হুদার পদত্যাগ দাবি করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, ফারুক হাসান, বিন ইয়ামিন মোল্লা এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী দীপ্তি, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, চয়ন বড়ুয়া সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) একটি জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, গত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন।

তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগ নেতারা উপাচার্যের সই করা চিরকুট ও অনুষদের ডিনের সহায়তায় নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি হন তারা।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, ছাত্রলীগের ৩৪ জন নেতার ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন অভিযুক্ত ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ।