ঢাবিতে সাহিত্য আড্ডায় দেশ বরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশিদ

ওবায়দুর রহমান সোহান, (ঢাবি) প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের সহযোগিতায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের আয়োজনে, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় (শিক্ষকদের আহার কক্ষ) গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীর উপস্থিততে ‘৫৩ তম সাহিত্য আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এ সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। বরাবরের মত এবারের সাহিত্য আড্ডার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘মুক্তিযুদ্ধ উত্তর বাংলা নাটকের গতি প্রকৃতি’। এ বিষয়ে প্রধান আলোচকের ভূমিকায় ছিলেন দেশ বরেণ্য নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক ও সংগঠক মামুনুর রশীদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রীতম চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় ৫৩ তম সাহিত্য আড্ডায় সভাপতিত্ত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, নাট্যকার ও গবেষক শাহমান মৈশান।

সাহিত্য আড্ডার শুরুতে অতিথিদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের সভাপতি সানোয়ারুল হক সনি।

আলোচনার মূল পর্বে দেশ বরেণ্য নাট্যকার মামুনুর রশীদ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন এবং এর আগের সময়কার মঞ্চনাটকসহ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত অধ্যায়ের পরে একদিকে যেমন নতুনভাবে দেশ গড়ার কাজ শুরু হয় ঠিক তেমনি নাট্যমঞ্চেও এক নতুন ধারার তৈরি হয়।

স্মৃতিচারণের এক পর্যায় তিনি পাকিস্তান আমলে মঞ্চনাটকের উপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ভেঙে ১৯৭২ সালে মুনীর চৌধুরীর কালজয়ী নাটক ‘কবর’ এর মাধ্যমে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল আরণ্যকের যাত্রার কথা উল্লেখ করেন। তখনকার সময়ে মঞ্চের শোচনীয় অবস্থা, নাট্যদলগুলোর নিজ নিজ সংগ্রামের কথা বলেন।

সাহিত্য আড্ডায় সেলিম আল দ্বীন, মমতাজউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ততকালীন নাটকের কুশীলবদের স্মরণ করে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে কিভাবে তখনকার মঞ্চে প্রতিবাদ হয়েছিল সেসব কথাও তিনি উল্লেখ করেন ৷

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা শুধু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার নই সংস্কৃতির দিক থেকে আমরা এক পশ্চাৎপদ দেশের দিকে চলে যাচ্ছি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি ব্যক্তিমানুষের পরিবর্তন দরকার।

পরিশেষে, নাটক ও সাহিত্যের পারষ্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত কথা বলেন তরুন নাট্যকার ও গবেষক শাহমান মৈশান। পরবর্তিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিভিন্ন নাটকের বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ঘরানার নাটক সম্পর্কে শ্রোতাদের ধারণা দেন।

সাহিত্য আড্ডার আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে এই ঢাবি শিক্ষক বলেন, এই ধরনের আয়োজন শিক্ষক ও ছাত্রদের মাঝে ব্যবধান কমিয়ে আনে এবং পারষ্পরিক সম্পর্কের জায়গাটি আরো সুদৃঢ় করে যা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান চর্চা এবং গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করে।

সাহিত্য আড্ডায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিস বিভাগের প্রভাষক তানভীর নাহিদ খান, ডাকসু সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্লোগান ৭১ এর সাবেক সভাপতি কাজী সুজন মিয়া।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।