রাবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মারধর, আহত ৬

রাবি প্রতিনিধি: হলের গেস্টরুমে বসাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের দ’গ্রপের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একপক্ষের মারধরে অপরপক্ষের অন্তত ছয় কর্মী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুওে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের সামনে দুই দফায় মারধরে তারা আহত হন। এসময় এক ছাত্রলীগ নেতার কক্ষের জানালা ভাংচুর করা হয়। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ও পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাদের সেখান সরিয়ে দেন। ঘটনায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- লিমন, সোহেল রানা, জসিম, রশিদ, মারুফ পারভেজ ও ইকরাম হোসেন রিওন। তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং গত বিশ^বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি প্রার্থী সাকিবুল হাসান বাকীর অনুসারী বলে জানা গেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে বিশ^বিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদার বখশ হলের গেস্ট রুমে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী কামরুল হাসান নামের এক ছাত্রলীগকর্মী শুয়ে ছিলেন। এ সময় লিমন তার এক বান্ধবীকে নিয়ে গেস্ট রুমে যান। তিনি কামরুলকে উঠে জায়গা দিতে বলেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে কামরুল লিমনকে মারধর করে। পরে লিমন তার লোকজনকে ফোন করলে তারা এসে কামরুলের রুমের (হলের ২১৭ নম্বর কক্ষ) জানালা ভাংচুর করেন এবং দরজায় আঘাত করে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় কামরুল রুমের দরজা বন্ধ করে সে রুমেই অবস্থান করছিলেন।

পরে দুপুর ১টার দিকে বাকীর কিছু অনুসারী মাদার বখশ হলের সামনে অবস্থান করলে ছাত্রলীগ নেতা বৃত্ত, আরিফ বিন জহির, আসাদুল্লাহ গালিব ও চঞ্চল কুমার অর্কের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদেরকে মারপিট করে। এতে লিমন ছাড়া অন্য পাঁচজন আহত হন। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাদের থামাতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

পরিস্থিতি উত্যপ্ত হলে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘গেস্টরুমে বসা নিয়ে হাতাহাতি হয়েছিলো। প্রক্টর, হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও আমি এটি মিটিয়ে দিয়েছি। বিশ^বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে বলেছি। এ নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো সমস্যা যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক করেছি।’

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘গেস্ট রুমে আমাদের ছোটভাইকে লিমন ও বহিরাগত কয়েকজন মারধর করে শুনেছি। তারা কামরুলের রুমে ভাঙচুর চালিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। পরে পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করলে আমি ও সাধারণ সম্পাদক এসে এটি নিয়ন্ত্রণ করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকী বলেন, ‘গত বছর ছাত্রলীগের কমিটির সময় আমি সভাপতি প্রার্থী ছিলাম। সভাপতি হতে পারিনি এরপর থেকে এখনকার সভাপতি সম্পাদক আমাকে ও আমার ছেলেদের ক্যাম্পাসে আসতে দেয় না। আমার কিছু ছোটভাই হলে থাকে তাদেরকে বিভিন্ন সময় হল থেকে বের করে দিয়েছে তারা। আজকে সামান্য বিষয় নিয়ে তারা আমার ছোটভাইদের মেরে আহত করেছে।’

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সামান্য বিষয় নিয়ে দুই ছাত্রের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। পরে আমি এসে ছাত্রনেতাদের সাথে কথা বলে মিমাংসা করে দিয়েছি। শুনেছি কে যেন একটু আঘাত পেয়েছে তাকে বিশ^বিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান প্রক্টর।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ।