মুক্ত বাণিজ্য বন্ধ ও খাদ্যের সার্বভৌমত্বের দাবি

নিউজ ডেস্ক:    মুক্ত বাণিজ্য বন্ধ ও খাদ্যের সার্বভৌমত্বের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় কিষাণী শ্রমিক সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ গ্রামীণ এলাকায় কর্মরত কৃষক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে

গাজীপুর, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯। মুক্ত বাণিজ্য বন্ধ ও খাদ্যের সার্বভৌমত্বের দাবিতে আজ গাজীপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ কেেছ বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় কিষাণী শ্রমিক সমিতি। গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটে কৃষক শ্রমিক এবং নারী কৃষকদের এই দুটি জাতীয় সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশটির আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে মেক্সিকোর ক্যানকুনে বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার মন্ত্রিপরিষদের সভা স্থলের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষক ও কৃষক নেতা লি কিউং হে আত্মহুতি দেয়। ঐ বছর ১০ সেপ্টেম্বরে যখন তিনি এই করুন কাজটি করেছিলেন, তখন তার গলায় একটি ব্যানার ছিল যার মধ্যে লেখা ছিল ‘ডাব্লিউটিও কিলস ফারমার্স’। তিনি তার এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কৃষক ও কৃষির উপর নির্ভরশীল গ্রামীণ মানুষের দাবি প্রতিধ্বনিত করেছিলেন, আর তা হলো ‘কৃষিকে ডাব্লিউটিও এর মুক্ত বাণিজ্য আলোচনার বাইরে রাখতে হবে’। লি কোরিয়ার গ্রামাঞ্চলের একজন স্বনির্ভর ধান চাষী ছিলেন, কিন্তু ডাব্লিউটিওর মাধ্যমে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ডাম্পিংকৃত সস্তায় চাল এবং মাংস আমদানির কারণে সব হারিয়েছেন তিনি। সেই থেকে লি কিউং এর আত্মহুতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কৃষকদের আনতর্জাতিক আন্দোলন লা ভিয়া ক্যাম্পেসিনা প্রতিবছর ডাব্লিউটিও এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে ১০ সেপ্টেম্বর কে আন্তর্জাতিক সংগ্রাম দিবস হিসেবে পালন করে।

সমাবেশে বক্তারা গ্রামীণ এলাকায় কর্মরত কৃষক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। তারা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ সরকার নীতিগত ভাবে মেনে নিয়েই এই ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেছে, তাই জাতিসংঘের এই ঘোষণা বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাদের।

আয়োজকরা উল্লেখ করেন যে, কৃষক, ক্ষুদ্র বিনিয়োগে খাদ্য উৎপাদনকারী, যারা গ্রমে বসবাস করে তারা খাদ্যের সুরক্ষা এবং জনগনের খাদ্যের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে। তারা বিশ্বের ৭০% লোককে খাওয়ায়। তারা মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন, বেশিরভাগ গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যার সমাধান করে থাকেন।

বক্তারা বলেন, ষাটের দশক পর্যন্ত একজন কৃষকের লবণ আর ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য কেরোসিন ছাড়া আর কিছু বাজার থেকে কিনতে হতো না। কিন্তু সবুজ বিল্পবের নামে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে আমাদের কৃষি, প্রাকৃতিক মৎস্য ও জীববৈচিত্র সব ধ্বংশের দ্বার প্রন্তে এসে পৌছেছে। তাই আমাদের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করে কৃষকের নেতৃত্বে বিকল্পের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ মামুন হোসেন, নুরজাহান বেগম, গোলাম ছরোয়ার প্রমূখ।