গরুর মাংস আমদানি বন্ধ করা হউক

সুমন দত্ত: বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে দেশের কয়েকটি মাংস উৎপাদনকারী ও রফতানি কারী সংগঠন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলে এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন তারা। এতে বক্তব্য রাখেন অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশনের অব বাংলাদেশের সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম। এদিন তার সঙ্গে ছিলেন দেশের মাংস উৎপাদনকারী সংস্থার পক্ষে ইমরান হোসেনসহ অন্যরা।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রতি বছর আমাদের দেশ ৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন করে থাকে। তার বিপরীতে মাংসের চাহিদা ৭২ লক্ষ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত ৩ লক্ষ মেট্রিক টন মাংস আমরা বাইরে রফতানি করি। এই অবস্থায় আমরা বিদেশ থেকে মাংস আমদানি করলে এই খাত হুমকির মুখে পড়বে। দেশের খামারিরা তাদের পুঁজি হারাবে। গরীব খামারিরা পশুর ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবে। তাই অবিলম্বে বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিক সরকার।

মাংসের দাম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাব দেন ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, মাংসের দাম কমানো যায় সরকার যদি এ খাতে সহযোগিতা করে। পশু পালনে দরকার পড়ে গো খাদ্য ও বিদ্যুৎ। এ দুটো বেসরকারি বাণিজ্যিক খাতে অন্তভূক্ত। সরকারকে এদিকটায় নজর দিতে হবে। গো খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই খাদ্য বন্দর থেকে খালাস করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়। যার ফলে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া গরু পালনে বিদ্যুৎ প্রয়োজন। আর এই বিদ্যুতের ব্যবসা বাণিজ্যিক। খামারিদের কাছে কম মুল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন শহীদ চৌধুরী । তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যেসব গরুর মাংস আসবে সেগুলোর কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে না। এসব মাংস গরুর না মোষের তা কেউ জানে না। তাছাড়া ভিল নামে শুকরের মাংস আমদানি করা হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। এসব মাংস খেলে মানুষের শরীরে ম্যাড কাউ ডিজিস হতে পারে।

তাই অবিলম্বে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম