ছাত্রলীগের সহায়তায় পথ শিশুর ক্যান্সার চিকিৎসা

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি: ২১ মাস বয়সী এক পথশিশুর ক্যান্সার চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী। তার সার্বিক সহযোগিতায় শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

ভিন্ন ভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, রাজধানীর হাজারীবাগের কালিনগরের বাসিন্দা হালিমার ২১ মাস বয়সী শিশু তাহমিনা আক্তারের কিডনিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। অসহায় হালিমার স্বামী নজরুল, ট্রাকের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন আর তিনি নিজে মানুষের বাসায় কাজ করেন। তাদের পক্ষে শিশু তাহমিনার চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করা এককথায় অসম্ভব হয়ে পড়ে ।

এমতাবস্থায়, হালিমার বড় ছেলে (১১) ওসমান গণি ৩১ আগস্ট (শনিবার) ডাকসুতে এসে গোলাম রাব্বানী সঙ্গে দেখা করে ছোট বোন তাহমিনার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। এরপর, গোলাম রাব্বানী ঢাবির বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ফয়সাল মাসুদ ও স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম মল্লিককে এব্যাপারে সহযোগিতা করার দায়িত্ব দেন।

এ ব্যাপারে ফয়সাল মাসুদ বলেন, গোলাম রাব্বানী ভাই আমাদের দায়িত্ব দেয় শিশু তাহমিনার চিকিৎসার যাবতীয় বিষয় দেখাশুনা করতে। আমরা কাজ শুরু করি। ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের টেস্ট করাই। প্রয়োজনীয়  ঔষধ যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কিনে দিয়েছি । বেশ কয়েকদিন এভাবে দেখাশুনার পর ডাক্তারের পরামর্শে শিশু তাহমিনার অপারেশন করার সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৫ নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে শিশুটি। আর অপারেশনও হবে এই হাসপাতালে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর ) আমি নিজে শিশুটির জন্য রক্ত দিয়ে ব্লাড ব্যাংকে জমা রেখেছি। আগামী শনিবার সকালে হবে অপারেশন। গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের সহযোগিতায় সবকিছু আমরা করেছি। এখন সবার কাছে শুধু শিশুটির জন্য দোয়া চাই।

শিশু তাহমিনার মা হালিমা বলেন, রাব্বানী ভাইয়ের সহযোগিতায় আমার মেয়ের চিকিৎসা চলছে। ফয়সাল মাসুদ ভাইও আমার মেয়ের জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছেন।তিনি নিজে রক্ত দিয়েছেন আমার মেয়ের অপারেশনের জন্য। এখনও সবকিছুর তত্ত্বাবধান করছেন। রাব্বানী ভাইসহ সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি সবার কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, এটা আমাদের একটা মানবিক দায়িত্ব। বিভিন্ন অসহায়, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ এরাই হয়তো একদিন বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে আবির্ভূত হবে। তারাও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন হবে এবং এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তারাও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।