রশিদ-নবীর স্পিন ভেল্কিতে বিপদে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:   সৌম্যর সঙ্গী লিটন নিজের ইনিংসটা বড় করছিলেন। কিন্তু লিটনকে বেশি দূর যেতে দিলেন না রশিদ খান। ৩৩ রানে থাকা লিটনের উইকেট উপড়ে ফেলেন রশিদ।

দলীয় ৫৪ রানে লিটনের বিদায়ের পর সাকিবকে নিয়ে দলের হাল ধরেন চার নম্বরে খেলতে নামা মোমিনুল হক। আফগানিস্তানের বোলারদের সামলে রয়েসয়ে এগোচ্ছিলেন তারা। এতে এই জুটিতে শতরানে পৌঁছানোর পথে হাটতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু আবারো বাংলাদেশের বড় জুটি গড়ার পথে বাঁধা হয়ে দাড়ান আফগান অধিনায়ক রশিদ। যেমনটা হয়েছিলেন সৌম্য-লিটনের বেলাতে। এবার সাকিবকে শিকার করে মোমিনুলের সাথে ৩৪ রানের জুটি ভাঙ্গেন রশিদ। ১১ রান করে লেগ বিফোর হন সাকিব।

দলীয় ৮৮ রানে সাকিবের আউটের পর ১০৪ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দু’টিই ছিলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মিডল-অর্ডারের প্রধান দুই ভরসা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাকিবের মত মুশফিক-মাহমুদুল্লাহকেও শিকার করেন রশিদ। মুশফিক রানের খাতা খুলতেই পারেননি। আর মাহমুদুল্লাহ করেন ৭ রান। তাই ১০৪ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় পুরো ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা।

তারপরও আশার আলো জ্বলে ছিলো মোমিনুল ক্রিজে থাকায়। কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির পর এলোমেলো হয়ে গেলেন মোমিনুল। নামের পাশে ৫২ রান রেখে নবীর বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তিনি। তার ৭১ বলের ইনিংসে ৮টি চার ছিলো।
মোমিনুলের পর বিদায় নেন টেল-এন্ডার পজিশনে ভালো ব্যাট করতে পারা মিরাজ। কিন্তু প্রয়োজনীয় সময় ১১ রানে থামলেন তিনি। তাই ১৪৬ রানে অষ্টম উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশকে। ফলে আজই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু উপরের সারির ব্যাটসম্যানরা যা পারেননি, তা শেষ বিকেলে করে দেখিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল। আফগানিস্তানের স্পিনারদের সামাল দিয়ে বুক উচিয়ে, উইকেটের সাথে সন্ধি করে। ফলে দিন শেষে অবিচ্ছিন্ন থেকে যান। নবম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রান তুলে দিন শেষ করেন তারা। মোসাদ্দেক ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৪ বলে ৪৪ ও তাইজুল ২টি চারে ৫৫ বলে ১৪ রানে অপরাজিত আছেন। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ ৪৭ রানে ৪ উইকেট। নবী ৫৩ বলে ২ উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড (টস-আফগানিস্তান) :
আফগানিস্তান : ৩৪২/১০, ১১৭ ওভার (রহমত ১০২, আসগর ৯২, তাইজুল ৪/১১৬)।
বাংলাদেশ : ১৯৪/৮, ৬৭ ওভার (মোমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৪*, রশিদ ৪/৪৭)।