নেত্রকোনায় ৮ বছর ধরে মহুয়া অডিটরিয়াম বন্ধ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : সংস্কার ও রক্ষণা-বেক্ষনের অভাবে ঝরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে নেত্রকোনা পৌর শহরের একমাত্র মহুয়া অডিটরিয়ামটি। এটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করলেও সংস্কার না হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে জেলার সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে। বর্তমানে এর ভেতরটা ময়লা আবর্জনার ভাগার হয়ে উঠেছে। উপরের ছাদ ভেঙ্গে পড়ছে। যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে। মেরামতের দাবী নেত্রকোনাবাসীর। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে মালিকানা পৌরসভা পেলেও সংস্কার কাজ এখনও শুরু হয় নি।

সরকারি অর্থায়নে ১৯৭৯ সালে গড়ে উঠা নেত্রকোনা শহরের প্রাণকেন্দ্র মোক্তারপাড়া মাঠের পাশে মহুয়া অডিটরিয়াম। এরপর থেকে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ যেকোন অনুষ্ঠান হলেই জমজমাট হয়ে উঠতো অডিটরিয়ামটি। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার ফলে ২০১৩ সালের জুন মাসে এটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে এখানে সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ভবনটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। দেয়ালে লতাপাতায় ঘিরে আছে। যেন দেখার কেউ নেই। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান প্রচারের প্রাণকেন্দ্র মহুয়া অডিটরিয়াম না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন। বিপাকে পড়েছে পৌর এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। অচিরেই সংস্কার করে নতুন একটি ভবন নির্মানের দাবী জানান পৌরবাসী।

নেত্রকোনায় সরকারি এবং বেসরকারি কোনো ধরনের অডিটরিয়াম নেই। নতুন অডিটরিয়াম করার জন্য এখনও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না । মহুয়া অডিটরিয়ামটি একবার শিল্পকলার নামে থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে এটি পৌরসভার হাতে চলে যায়। মালিকানা নিয়ে শিল্পকলার সাথে পৌরসভার মামলা হয়। শিল্পকলা মালিকানা চেয়ে আদালতে মামলা করেন। এই মামলা এখন উচ্চ উদালতে বিচারাধীন। ফলে আইনগত ভাবে সরকারি উদ্যোগে কোনো নতুন অডিটরিয়াম নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিগত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান খান। তিনি নতুন অডিটরিয়াম কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে এজন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল। কিন্তু অডিটরিয়াম নির্মিত হয়নি। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশান্ত কুমার রায় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনিও উদ্যোগ নেন। তিনিও এ ব্যাপারে সফল হতে পারেননি। নতুন করে অডিটরিয়াম কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ, শিল্পকলা এবং পৌরসভা উদ্যোগ নিলেও সফলতার মুখ দেখছেন না কেউ।

নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অডিটরিয়ামের অভাবে নেত্রকোনা পৌরশহরে স্থবির হয়ে পড়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, অনুষ্ঠান প্রচার প্রচারণা। এ শহরে জরুরিভাবে প্রয়োজন একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ। যার কোনো বিকল্প নেই। বারবার সরকারের নিকট দাবী জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

নেত্রকোনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সম্পাদক নাট্যব্যক্তিত্ব সানাওয়ার হোসেন ভূইয়া বলেন, শহরে অডিটরিয়ামের গুরুত্বটি ভাষায় বলে শেষ করা যাবে না। নতুন অডিটরিয়াম নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সংগঠন সভা, র‌্যালীসহ মানববন্ধন করেও সুফল পাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একেবারে নীরব।

নেত্রকোনা জেলা উদীচীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শহরে অডিটরিয়াম নির্মাণের বিষয়টি অসমাপ্তই রয়ে গেল। এ ব্যাপারে সিরিয়াসভাবে কেউ এগিয়ে আসছেন না ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে আমাদের এলাকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা।

নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান বলেন, পৌরশহরে একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি এটি আমি জানি। পৌর কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমার এটি সংস্কারের কাজ করার প্রবল ইচ্ছা আছে। তবে এর সংস্কার কাজ শুরু করার আগে কাগজপত্রসহ ব্যবস্থাপনা করতে সময় লাগবে।